চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এইচ ব্লকের আবাহনি মাঠ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর, হালিশহর থানার ওসি আহসান উদ্দীন, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার কবির আহমেদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকল্যাণ কমিটির সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি নিহতদের স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাঈদ আল নোমান বলেন, এই দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা, আবাসিক ভবন, শিল্পাঞ্চল, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দাহ্য পদার্থের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোধ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা এবং প্রতিটি ভবনে মানসম্মত ফায়ার সেফটি সরঞ্জাম—যেমন ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার ব্ল্যাঙ্কেট, স্মোক ডিটেক্টর- পর্যাপ্ত পরিমাণে স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বরগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার আহ্বান জানাই।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে গ্যাস বিস্ফোরণের খবর পেয়ে সাঈদ আল নোমান এমপি তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেন। বিস্ফোরণে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ সাখাওয়াতসহ একই পরিবারের ৯ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকাস্থ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হলে সেখানেও তিনি দগ্ধদের দেখতে যান।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ