অভ্যন্তরীণ আন্দোলন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা উপেক্ষা করে সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং— এই তিনটি প্রধান সূচকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। এ সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫, কার্গোতে ৭ দশমিক ৩৯ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ব্যবস্থাপনায় দক্ষ নেতৃত্ব, আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ, ছুটির দিনেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা, ডিজিটাল ই-বিলিং সিস্টেম ও জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমিয়ে আনাসহ নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ৭ জুলাই বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই পদক্ষেপের ফলে টার্মিনালটিতে কর্মদক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৬ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে কার্গো হ্যান্ডলিংয়েও উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এই সময়ে মোট ৩ হাজার ২৩০টি জাহাজ ভিড়েছে বন্দরে।
চলতি অর্থবছরে একাধিকবার অস্থিরতার মুখে পড়ে বন্দর। এনসিটিতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু দিকে ধর্মঘট পালিত হয়। এ সময় টানা কয়েকদিন বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। এছাড়া বর্ধিত মাশুল বাতিলের দাবিতে গত বছরের অক্টোবরে কয়েকদিন কর্মবিরতিতে যায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। এতেও বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে বিশ্বের শিপিং সেক্টরে দেখা দেয় অস্থিরতা। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিডি-প্রতিদিন/এমই