চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে দিদারুল আলম (৪৮) নামে রিয়াজউদ্দিন বাজারের এক ব্যবসায়ীকে পাওনা টাকার জন্য হত্যা করেছে বন্ধু আবু তৈয়ব। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আবু তৈয়বকে (৫১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত দিদারুল আলম পটিয়া উপজেলার কালারপোল মোহাম্মদ নগর এলাকার মৃত আহম্মেদ মিয়ার ছেলে। শুক্রবার রাতে কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কর্ণফুলী থানার ওসি শাহীনূর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
জানা গেছে, দিদারুল আলম ও আবু তৈয়বের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। দিদারুল নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকান পরিচালনা করতেন, সেখানে তৈয়ব কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে দিদারুল আলম নগরীর বাকলিয়ার বাসায় ফেরার পথে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তৈয়ব তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত দিদারুল আলমের স্বজনদের দাবি, দিদারের কাছে তৈয়ব কোনো টাকা পাওনা ছিল না। বরং দিদারুলই তাকে গ্রাম থেকে এনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ দিয়েছিল। পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আচরণ ও অযৌক্তিক টাকা দাবির কারণে তাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পটিয়ায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তৈয়ব কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে দাবি তাদের। নিহতের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু তৈয়ব দাবি করেছেন, দিদারুলের কাছে তার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার রাতে দেখা হলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে দিদারুল পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
বিডি প্রতিদিন/এএম