চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন আদালত এলাকায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাড. সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বাদী তাঁর বাবা জামাল উদ্দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করেছেন আদালত।
বুধবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদীর আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আলিফ হত্যা মামলায় নিহত আলিফের বাবা ষষ্ঠবারের মতো আদালতে জেরার জন্য উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী আবারও সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নাকচ করে পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন। চিন্ময় কৃষ্ণ আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের মা ও আশ্রমের দুই সন্ন্যাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মৌখিক আবেদন করেন।
তিনি বলেন, এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগের তারিখেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তিনটি আবেদন জমা দেওয়া হয়। এগুলো হলো- জামিন আবেদন, চিকিৎসার আবেদন এবং আইনজীবীর অসুস্থতার কারণে জেরা কার্যক্রমের জন্য সময় চেয়ে আবেদন। আবেদনগুলো আইনজীবী নিজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দাখিল না করে অন্য মাধ্যমে পাঠান। এ কারণে আদালত শুনানি গ্রহণ না করে আবেদনগুলো নামঞ্জুর করেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
গত বছরের ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত। ৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ বছরের ২৫ আগস্ট চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। বর্তমানে এই মামলায় ২৬ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১৩ জন আসামি পলাতক।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল