আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনের সাম্প্রতিক ফলাফল প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু বিষয়ে তরুণদের ভাবনা ও উদ্বেগ তুলে ধরতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক প্যানেল আলোচনায় তারা এই আশঙ্কার কথা জানান।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) ইনস্টিটিউট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি (ICCES) এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (IUB)-এর পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ যৌথভাবে ‘শেয়ার্ড ম্যান্ডেট, শেয়ার্ড ফিউচার’ শীর্ষক এই প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, ‘উচ্চাভিলাষী জলবায়ু প্রশমন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উন্নত ও উন্নয়নশীল—কোনো দেশই যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখাতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় জলবায়ু তহবিলকে কার্যকর করতে হলে তাদের আলোচনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
জলবায়ু অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত তহবিলের মধ্যেই পুঁজিবাদের ঝুঁকি রয়ে গেছে। আমরা যদি আলোচনায় সক্রিয় না থাকি, তাহলে এটি নতুন ধরনের উপনিবেশবাদে পরিণত হতে পারে।’
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আইইউবি-এর পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান ড. মো. হাফিজুর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি-এর ইউএন উইং চিফ একেএম সোহেল, ন্যাকম (NACOM)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মনজুরুল হান্নান খান, আইসিসিইএস-এর চেয়ারম্যান শেখ তাজুল ইসলাম তুহিন, এবং আইইউবি-এর আইসিসিসিএডি (ICCCAD)-এর জেন্ডার অ্যান্ড ইয়ুথ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর সুমাইয়া বিনতে সেলিম। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় মতামত দেন।
আলোচনার শুরুতে বক্তারা বলেন, ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ (COP30) সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ও যৌথ ম্যান্ডেটের সঙ্গে সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত অধরা হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে কপ-৩০-কে ‘বাস্তবায়নের কপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। টানা কয়েক বছর ধরে একের পর এক কপ (COP) থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসার পর, আমাজনের প্রান্তে অবস্থিত ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত এই বছরের কনফারেন্স অফ পার্টিজ (Conference of Parties)-এর উপর অনেক আশা ছিল।
বক্তারা আরও বলেন, কিন্তু এই বেলেম কপ-এ আসলে কী কী অর্জন হয়েছে? আর বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এর অর্থ কী? বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার সামগ্রিক অবস্থা এবং এর ফলাফল বাংলাদেশের জাতীয় নীতি ও জলবায়ু কৌশলের জন্য কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ইনস্টিটিউট অব ক্লাইমেট চেঞ্জ, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি (ICCES) একটি অলাভজনক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা