রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদন করে রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন, রংপুর সিটি করপোরেশন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এর আগে দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, জাসদ, বাসদ, রংপুর প্রেসক্লাব, বাংলার চোখ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সকাল ৯টায় রংপুর স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়।
এ ছাড়াও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
এদিকে সেনাবাহিনী রংপুর এরিয়া সদর দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় দুই দিনব্যাপী মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে শাশ্বত বাংলা মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর প্রাঙ্গণে ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও দ্য মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের উদ্যোগে পৃথক বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর সিটি পার্ক মার্কেট থেকে ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সেক্রেটারি ও রংপুর-৩ (সদর) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়ালের নেতৃত্বে বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানানো হয়।
দুপুরে নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত জামায়াতের দলীয় কার্যালয় থেকে আরেকটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও রংপুর-৩ সদর আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলাল এবং মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। মহানগর জামায়াতের ৩৩টি ওয়ার্ড জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জুলাই চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে দুপুরে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ সদর আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর নেতৃত্বে র্যালিটি গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। এতে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল