ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়ান। উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রংপুর বেড়াতে আসলে অনেকেই তাজহাট রাজবাড়ি কিংবা কারমাইকেল কলেজ এই দুটি জায়গা দেখার পর সময় পেলে শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে নারী জাগরণের অগ্রদূত মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দের খোর্দ্দমুরাদপুর গ্রামে রোকেয়ার জন্মভিটা পরিদর্শন করতে আসেন।
ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখানে চলে মাসব্যাপী কাঠমেলা। তার আগে হয়ে যায় রোকেয়া মেলা ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর। এই পায়রাবন্দে লাল ইটের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকেন্দ্রের অফিস ভবনের বাগানে বেশ কয়েক রঙের ভিন্নজাতের নানা বর্ণের গোলাপ আগত দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গোলাপ হচ্ছে তাজমহল, রানী ও পদ্মগোলাপ। আগত দর্শনার্থীদের মন কাড়ছে এসব গোলাপ। ফুলের মুগ্ধতায় মোহিত হচ্ছেন অনেকেই।
তথ্য অনুযায়ী, প্রাচীনতম গোলাপের বয়স ২ কোটি ৬০ লাখ বছর থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ বছর। কবে, কোথায় ও কখন প্রথম গোলাপ চাষ শুরু হয়েছিল তার সঠিক বিবরণ জানা না গেলেও প্রাচীনকালে গ্রীস, রোম, মধ্যপ্রাচ্য ও চীনে গোলাপের আবাদ ছিল। গোলাপ উত্তর গোলার্ধ থেকে ক্রমে দক্ষিণ গোলার্ধে বিস্তৃতি লাভ করে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গোলাপ ছিল সাদা ও হালকা রঙের, ফুল দিত খুব অল্প দিন আর প্রাচ্যের গোলাপ ছিল হলুদ, লাল ইত্যাদি কড়া রঙের। বছরের অনেকটা সময় ধরে ফুল ফুটতো। প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের গোলাপের সংকরায়ণের মাধ্যমে ঘটেছে এক পুষ্পবিপ্লব, উদ্ভব হয়েছে মনমাতানো অজস্র জাতের গোলাপ। যতদূর জানা যায় ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্দর গোলাপ এসেছে প্রায় পাঁচশ বছর আগে বসরা থেকে। মুঘল সম্রাট বাবর প্রথম ‘বসরা’ নামের এক গোলাপ নিয়ে এসেছিলেন। সুগন্ধি গোলাপি রঙের এ গোলাপ এখনও এদেশে ‘বসরা’ নামে পরিচিত।
বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না জানান, ফুলজগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় নিঃসন্দেহে গোলাপ ফুল। সৌন্দর্য আর সৌরভ সকলকে সহজে আকৃষ্ট করে বলেই গোলাপ ফুলের রাণী। পৃথিবীতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি প্রজাতি এবং হাজার হাজার জাত রয়েছে যেগুলো নানা রঙের, নানা গন্ধের, নানা আকারের। অনেক গোলাপের মধ্যে তাজমহল, রাণী এবং পদ্মগোলাপ জাতটি একটু ব্যতিক্রম। এখানে নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়ে থাকে। গোলাপ চাষের জন্য খোলামেলা, রৌদ্রোজ্জ্বল এবং সুরক্ষিত স্থান প্রয়োজন যেটা এখানে রয়েছে। এই বাগানটিকে আটটি ভাগে ভাগ করে ভিন্নভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ