সাভারের আলোচিত ছয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মশিউর রহমান সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সে এর আগেও একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং মাদক মামলায় আরও দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) হেলাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ২০১৪ সালের ৫ মার্চ সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকার শাপলা হাউসিংয়ের ভেতর থেকে জেবায়ের ওরফে শাওন নামে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। সে সময় তিনি নিজেকে ‘টাইগার সম্রাট’ নামে পরিচয় দিতেন এবং রাজধানীর আরমানিটোলা থানার বংশাল এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করতেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাপলা হাউসিং এলাকা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি অপারেশন আরও জানান, ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ এপ্রিল মাদকসহ সম্রাটকে আরও দুইবার গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। সে সময় বিভিন্ন স্থানের ঠিকানা ব্যবহার করেছিল সে। তার বিরুদ্ধে একটি পুরোনো হত্যা মামলা এবং দুটি মাদক মামলা ছিল। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
পরে ১১ অক্টোবর রাতে একই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (প্রায় ৩০ বছর বয়সী) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে এসব হত্যাকাণ্ডে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
সবশেষে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লার পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ, অন্যজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল