বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও গুণগত উন্নয়ন না হওয়ায় অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সেলিম জাহান।
তিনি বলেছেন, প্রত্যেকটি বাজেটে একটি উন্নয়ন দর্শন থাকা দরকার। বাজেটের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকতে হবে। সাধারণ মানুষ চায় অর্থনৈতিক জীবনে স্বস্তি ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. সেলিম জাহান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব ছাড়াও বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত। সরকারের ব্যয়ের ২৫ শতাংশই বৈদেশিক ঋণের সুদ এবং আসল পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। এরপরও জ্বালানি, রপ্তানি সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভতুর্কি দিতে হচ্ছে। এতে ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না। ফলে বাজেটে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। করদান পদ্ধতি জটিল করা হয় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য। করদাতাদের করভীতির চেয়ে করদানে অনীহাই বেশি বলেও দাবি করেন এই অর্থনীতিবিদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী সরকারের ফেলে যাওয়া লন্ডভন্ড ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তাদের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তুপের উপর দাড়িয়ে ঘোষিত হতে যাচ্ছে এবারের বাজেট। আওয়ামী আমলের বেশিরভাগ প্রকল্পই ছিলো অতিমূল্যায়িত। যার ৪০ শতাংশ ব্যয়ই ছিলো ভূয়া।
সংকটকালে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও সাবধানী বাজেট দিতে হবে। বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, মূল্যস্ফীতি—মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি না করে, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের উপর চাপ তৈরি না হয়, সে সব দিক বিবেচনা করে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
“অর্থনৈতিক সুরক্ষায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আগামী বাজেটের প্রধান কৌশল হওয়া উচিৎ” শীর্ষক ছায়া সংসদে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অতিরিক্ত কর কমিশনার মেহেদী হাসান তামিম, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/কামাল