তামাকপণ্যের ওপর কর বাড়ানো হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, অন্যদিকে ধূমপান কমে অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে এ বিষয়ে জোরালো সুপারিশ উঠে এসেছে একটি সাংবাদিক কর্মশালায়।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কর বাড়ানো হলে এ খাত থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় অর্জন সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
একইসঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং তিন লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে বলে জানানো হয়। দীর্ঘমেয়াদে এক লাখ ৮৫ হাজার তরুণসহ তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ বাজেট ২০২৬-২৭ শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা প্রগতির জন্য জ্ঞান এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স আত্মা আয়োজিত কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৮ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেন। তারা বলেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী তামাক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হবে, অকাল মৃত্যু কমবে এবং রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আত্মা’র কনভেনর লিটন হায়দার, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, হেড অব প্রোগ্রামস মো. হাসান শাহরিয়ার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।
বিডি প্রতিদিন/আশিক