বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ডেডিকেশন ওয়ার্ডে ধারন ক্ষমতার ১০ গুনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য যারা স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন, তারা যেভাবে দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তাদেরকে স্যালুট জানাই। তারা অসাধ্য সাধন করছেন। কারণ পৃথিবীর কোনো দেশের হাসপাতালের পক্ষে এত রোগীর চিকিৎসা দেয়া অসাধ্য।
শনিবার বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিংয়ে একথা বলেন তিনি।
এ সময় জিয়াউদ্দিন হায়দার আরো বলেন, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুর হাম হওয়ার কথা না। এসব শিশু মায়ের দুধ খাবে। মায়ের দুধ থেকে হামের পর্যাপ্ত এন্টিবডি পাবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষন করেছেন অনেক মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ায় না। বোতলের দুধ খাওয়ায়। বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এছাড়াও বিগত দুই রাউন্ড টিকা দেয়া হয়নি। এ কারণে শিশুরা আনপ্রটেক্ট হয়ে পড়েছে। যার কারণে আজকে হামের প্রাদুর্ভাবটা এ পর্যায়ে চলে এসেছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে আরো একটি সমস্যা রয়েছে। কোন রোগ চরম পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের শরনাপন্ন হই না। নিউমোনিয়া মারাত্মক অবস্থায় চলে যায়, তখন বাবা-মা শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে চলে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জানান, বিভাগের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করে একটি চার্ট তৈরি করবেন। ওই চার্টে কয়টি উপসর্গ থাকবে। চার্টে থাকা উপসর্গ না থাকলে সেই সকল রোগী বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে পারবেন না।
বিফ্রিংকালে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ হাসপাতালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ