রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) এবং মো. আরমান দেওয়ান (২৯)।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হামলায় আহত রেশমি বেগম নামে একজন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে গ্রেফতার তিনজনকেই হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফদার করা হয়। অভিযান এখনো চলছে।
মামলার প্রধান নয় আসামি হলেন— মো. আলী আকবর (৪৮), মো. বাপ্পা (৩৫), মো. বাবু (৪৫), মো. কাউসার (২৬), মো. আজম (৪০), শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), কাজী জহির (৫২), মো. মিজান (৩৮) এবং কাজী পনির (৫০)।
মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে রেশমি বেগম বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাহ আলী মাজার জিয়ারত ও ওরসের সময় ভক্তদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহযোগিতা করে আসছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে যখন মাজার প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ছিল, ঠিক তখন জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০ জন নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটাসহ মাজারের প্রধান গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে আকস্মিক তাণ্ডব শুরু করে।
এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা মাজারের শিরনির ডেগের ঐতিহ্যবাহী লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষঙ্গ ভাঙচুর করে। এতে রেশমি বেগম বাধা দিতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে তার শ্লীলতাহানি করা হয়। এই হামলায় মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা জিয়ারত করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, শাহ আলী মাজারে হামলার এই জঘন্য ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের নেতৃত্বে এনসিপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মাজার প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত ভক্তদের সঙ্গে কথা বলে সংহতি প্রকাশ করে। প্রতিনিধিদলে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক, প্রীতম দাশ, হুমায়রা নূরসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মাজার পরিদর্শনের পর তারা শাহ আলী থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিগত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন মাজার ও সুফি স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরসহ বিভিন্ন মাজারে হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাদের আড়াল করতে বার বার ‘মব’ শব্দের ব্যবহার করে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এভাবে দায় এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বিগত দুই বছরে দেশের সব মাজারের ওপর হওয়া হামলার ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনের জোর দাবি জানান।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম