রংপুরের পীরগঞ্জে গর্ভের সন্তানসহ এক নারীকে হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
সোমবার সকালে রংপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি মাসুদ মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি পিপি অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ মিয়া পীরগঞ্জ উপজেলার মোনাইল এলাকার সাহেব মিয়ার ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে শান্তনা খাতুনের সঙ্গে মাসুদ মিয়ার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে শান্তনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
একসময় শান্তনা গর্ভবতী হলে তিনি আবারও বিয়ের জন্য চাপ দেন। এ অবস্থায় মাসুদ তাকে কিছু না জানিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ আশুলিয়া থেকে নিজ বাড়ি পীরগঞ্জের মোনাইল গ্রামে চলে আসেন।
২০২৩ সালের ১২ জুলাই শান্তনা নিজেকে মাসুদের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তার বাড়িতে চলে আসেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে বৈঠক বসে। বৈঠকে শান্তনা বিয়ের দাবি জানান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার হুমকি দেন। তখন মাসুদ তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন।
পরদিন ১৩ জুলাই শান্তনা ফোন করে আবারও মামলার ভয় দেখালে মাসুদ ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে কৌশলে একটি আখক্ষেতে নিয়ে শান্তনাকে হত্যা করেন। হত্যার সময় শান্তনার পেটে লাথি মারলে গর্ভের সন্তানও মারা যায় এবং মৃত সন্তান প্রসব হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর পীরগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে এবং মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
সরকারি পিপি অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। আদালতের রায়ে নিহত শান্তনার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী সুলতান আহম্মেদ শাহীন।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ