“অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়া কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. রফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগের সময় ফায়ার ফাইটাররাই সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ান। এজন্যই তারা ‘লাইফ সেভিং ফোর্স’। যেকোনো দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তিনি গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সতর্কতা এবং ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জানমাল রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্যোগ সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
এসময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়ার সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর পুলক কুমার গোসাম্বীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অগ্নিসেনা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান জানান, “গতি, সেবা ও ত্যাগ”—এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণকে উন্নত সেবা প্রদানই তাদের লক্ষ্য। ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ১২টি ফায়ার স্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জেলায় বর্তমানে ৩০টি গাড়ি রয়েছে। এছাড়া একটি টার্ন টেবল লেডার (টিটিএল) সংযুক্ত হওয়ায় ৬৮ মিটার বা ২৪ তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়া সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে জেলায় মোট ৬১৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং উদ্ধারকৃত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। একই সময়ে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা ও ১১০টি অন্যান্য দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসব ঘটনায় আহত হন ৪২২ জন এবং নিহত হন ৯৭ জন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে ২৪৯ জন রোগীকে পরিবহন করা হয়েছে। এ খাতে ফি আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭০০ টাকা।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা ফায়ার ফাইটারদের ব্যবহৃত বিভিন্ন উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের শেরপুর রোড প্রদক্ষিণ করে ফায়ার স্টেশনে এসে শেষ হয়।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ