শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৩৭

নিরাপত্তা হুমকিতে রাবির প্রগতিশীল শিক্ষকরা

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

নিরাপত্তা হুমকিতে রাবির প্রগতিশীল শিক্ষকরা

একের পর এক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খুনের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকরা। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার পর এ নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। জানা গেছে, গত দুই বছরে চিঠি অথবা মুঠোফোনে হত্যার হুমকি পেয়েছেন এমন শিক্ষকরা এখন রীতিমতো শঙ্কার মধ্যে আছেন। যাদের মধ্যে রাবি উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিভিন্ন সময় এই শিক্ষকদের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন অথবা চরমপন্থি দলের পরিচয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে অধ্যাপক রেজাউলও এমন হুমকি পেয়েছিলেন। গত শনিবার তাকে হত্যার পর এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন হুমকি পাওয়া এসব শিক্ষকরা। এদের মধ্যে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকও আছেন। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘কী পরিমাণ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, তার কোনো পরিমাপক নেই। প্রত্যেকটি মানুষ তার নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কীভাবে চললে এ ধরনের হামলা থেকে মুক্তি পাবেন তা তারা বলতে পারছেন না।’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর নিজ বাসভবনের সামনে রাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলামকে হত্যার পর থেকে জেএমবি, আনসার আল ইসলাম, লালবাহিনী, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, চরমপন্থি দল, সর্বহারা পার্টিসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আছেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, রাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিবুল আলম প্রধান। গত বছরের ৩০ নভেম্বর রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন এবং কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে হত্যার হুমকি দিয়ে উপাচার্য দফতরে চিঠি পাঠায় আনসার আল ইসলাম নামের জঙ্গি সংগঠন। এসব শিক্ষকরা হুমকি পাওয়ার পর নগরীর মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং প্রক্টর দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে দুই বছরেও হুমকিদাতা চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ূন কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা নম্বরগুলো ট্র্যাক করার চেষ্টা করেছিলাম। তবে যেসব নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো বন্ধ থাকে। এর সঙ্গে জঙ্গিরা সংশ্লিষ্ট আছে আমরা এমন কোনো তথ্য পাইনি। তবে এ নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে। রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, অব্যাহত হুমকির মধ্যেই আমরা বসবাস করছি। তার মধ্যেই অধ্যাপক রেজাউল করিমকে হত্যা করা হলো। এটা নিরাপত্তাহীনতার দিকটিকেই তুলে ধরে।


আপনার মন্তব্য