শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:৪৮

গোপন সমঝোতায় ত্রিশ অবৈধ পশুর হাট

আওয়ামী লীগ বিএনপি ঐক্য

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

গোপন সমঝোতায় ত্রিশ অবৈধ পশুর হাট

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে সিলেটে বৈধ হাটের চেয়ে অবৈধ হাটই বেশি। মহানগরীতে বৈধ হাট তিনটি হলেও অবৈধভাবে বসানো হয়েছে আরও অন্তত ৩০টি হাট। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা ভাগাভাগি করে এই হাটগুলো বসিয়েছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বৈধ ইজারাদাররা। অবৈধ হাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিটি করপোরেশনের কাছে তারা এ জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করছেন।

জানা যায়, সিলেট মহানগরীর ভেতর পশুর একমাত্র স্থায়ী হাট কাজিরবাজার। প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় সিলেট সিটি করপোরেশন কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য কয়েকটি হাট ইজারা দিয়ে থাকে। এ বছর সিটি করপোরেশন মাছিমপুর কয়েদির মাঠ ও কদমতলি পয়েন্টসংলগ্ন মাঠ ইজারা দেয়। এর মধ্যে কয়েদির মাঠ ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নেন সিরাজুল ইসলাম শামীম। সিটি করপোরেশন নির্ধারিত হাটের জায়গা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশতাক আহমদ এবং সাবেক কাউন্সিলর ফারুক আহমদের ছেলে দুটি হাট বসান। সিটি করপোরেশন ইজারাকৃত হাট বুঝিয়ে দিতে না পারায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইজারাদার শামীম। ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বরাবর আবেদন করেছেন। হাটের ইজারাকৃত জায়গা ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছেন। অপরদিকে তিনবার দরপত্র আহ্বান করে মাত্র দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে কদমতলি পয়েন্ট সংলগ্ন মাঠ। স্থানীয় কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা তৌফিক বক্স লিপনের নেতৃত্বে ওই জায়গায় পশুর হাট বসানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, নামমাত্র মূল্যে হাটটি ইজারা নেওয়ার জন্য আগ্রহী অনেককেই দরপত্রে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়াও নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী মিলে বসিয়েছেন পশুর হাট। আরামবাগে আনন্দ খেলার মাঠে বসানো অবৈধ পশুর হাটের নেপথ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুল গফফার ও টিলাগড় গ্রুপের সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। শাহী ঈদগাহ সদর উপজেলা খেলার মাঠে বসানো হয়েছে বিশাল হাট। মাঠের উন্নয়নের ধোয়া তুলে ওই হাটটি পরিচালনা করছেন ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম পাপ্পু, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ আহমদসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা। এর আগের বারও মাঠের উন্নয়নের কথা বলে তারা সেখানে পশুর হাট বসালেও ঈদের পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সিলেটের সর্ববৃহৎ কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে আখালিয়ার বিজিবি মাঠে। অবৈধ এ হাট পরিচালনায় রয়েছেন বিতর্কিত মেলা ব্যবসায়ী মঈন খান বাবলু ওরফে মেলা বাবলু। এ ছাড়াও নগরীর মেজরটিলা, শাহপরান, কুমারপাড়া, রিকাবিবাজার, দর্শনদেউড়ি, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, পাঠানটুলাসহ বিভিন্ন স্থানে হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। কয়েকটি স্থানে বাঁশের খুঁটি গেড়ে রাখা হয়েছে। আজকালের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব স্থানে হাট বসানোর কথা রয়েছে। এদিকে বৈধ হাটে আসা পশুবাহী ট্রাক জোর করে অবৈধ হাটে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। দিনের বেলা পশুবাহী ট্রাকগুলোকে পুলিশ প্রহরায় বৈধ হাটে নিয়ে আসা হলেও রাতের বেলা শুরু হয় পশু নিয়ে টানাটানি। সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ইজারা নেওয়া লাক্কাতুড়া হাটের ইজারাদার রিমাদ আহমদ রুবেল জানান, পশুবাহী তার তিনটি ট্রাক বিজিবি মাঠের অবৈধ হাটে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন মেলা বাবলু। এমন অভিযোগ প্রায় সবকটি বৈধ হাটের ইজারাদারদের।


আপনার মন্তব্য