শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৮

রাজশাহীতে ফের পুকুর খননের হিড়িক

মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশ, নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে ফের পুকুর খননের হিড়িক

রাজশাহীতে আবারও শুরু হয়েছে পুকুর খননের মহোৎসব। কৃষি জমি নষ্ট করে চলছে পুকুর খনন। সরকারিভাবে পুকুর খনন নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না প্রভাবশালীরা। পুকুর খননের মাটি বহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো। রাজশাহীর পবা উপজেলার ফলিয়ার বিল, হুজুরীপাড়ার কর্ণহার বড়বিল ক্ষত-বিক্ষত পুকুর খননে। সরকারি খাল দখলে নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে পুকুর খনন। হুজুরীপাড়ার কর্ণহার বড়বিলের মধ্যে স্লুইস গেট থেকে বাগধানী স্লুইস গেট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারের খাল আছে। এর আগেই কর্ণহার বড়বিলের পানি নিষ্কাশনের খাল দখলে নিয়ে তেঁতুলিয়া গ্রামের লিটন আলী পুকুর খনন করেন। পাশাপাশি আরও দুটি পুকুর খনন করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কিছুদিন আগে আবারও আরেকটি পুকুর খনন শুরু হলে কর্ণহার বড়বিল পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল আমিন সিদ্দিকী অভিযোগ দিলে পবা উপজেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে আবারও প্রভাবশালীরা পুকুর খনন শুরু করে। অভিযানের আগে তাদের কাছে খবর চলে যায়। এতে করে পুকুর খনন বন্ধ হচ্ছে না। তেঁতুলিয়ার সুন্দলপুর ঘোষপুকুরে পুকুর খনন করছেন রাহিদুল ইসলাম, তেঁতুলিয়া জোড়গাছার মাঠে পুকুর খনন করছেন শাহজাহান আলী, আলোকচ্ছত্রে খড়িয়াকান্দি এলাকার রবিউল ও দুর্গাপুরের আবদুর রহিদ। স্থানীয়দের কাছ থেকে বছরে বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা জমি নিয়েছেন। এখন সেখানে চলছে পুকুর খনন। শীলপুর-জুড়ানপুর, ভবানীপুর, কাপাসমুল, শিরুলিয়া ও ঘোলহাড়িয়া গ্রামের কৃষি জমিগুলো এখন শুধুই পুকুর। জেলার বাগমারা ও দুর্গাপুরেও চলছে পুকুর খননের উৎসব। পবার পারিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু জানান, কয়েক বছর থেকে তার ইউনিয়নের অর্ধেক জমি পুকুরে চলে গেছে। বাকি কৃষি জমিতেই নতুনভাবে পুকুর খননে মেতে উঠেছে প্রভাবশালীরা।

পুকুর খননের কারণে গ্রামে গ্রামে একদিকে জলাবদ্ধতা এবং অন্যদিকে গ্রামীণ রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি আইন অমান্য করে ভূমির আকার পরিবর্তন করে পুকুর খননে সাহস জোগাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুকুর খননে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি। ফলে বর্ষা মৌসুমে জেলার প্রায় খেতের মাঠে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। পুকুর সংলগ্ন প্রান্তিক ও বর্গাচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুকুর খননের মাটি বহনের কারণে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর কবির জানান, যারা অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে, তাদের বিরুদ্ধে সব সময় অভিযান চালানো হচ্ছে। খননযন্ত্র জব্দ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর