শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৯ ২৩:১৫

মিলল মাথা গোঁজার ঠাঁই

চট্টগ্রামে ১০ হাজার পরিবারে হাসির ঝিলিক

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

মিলল মাথা গোঁজার ঠাঁই

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কালিপুর ইউনিয়নের জঙ্গল কোকদ-ী আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসন হন গৃহহীন কুলসুমা বেগম। নিজের কোনো ভূমি না থাকায় ভাড়ায় থাকতেন। কিন্তু অল্প আয়ের সংসারে হাঁপিয়ে উঠতে হয় প্রতিনিয়ত। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি গৃহের মালিক। চোখে-মুখে এখন হাসির ঝিলিক তার। তিনি বলেন, ‘আমরা শীলকুপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড়ে ভাড়া     বাসায় করতাম। এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এক টুকরা জায়গা হয়েছে আমাদের। ভাত খেতে পারি না পারি এখন অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারব। এ জন্য আমরা বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি আশ্রয়ণ প্রকল্প ফেইজ-২ এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের ১০ উপজেলার ৪ হাজার ৪৪৮টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়েছে ঘরহীন পরিবারগুলোকে। এরই মধ্যে এসব গৃহে তারা বসবাসও শুরু করেছেন। সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া দরিদ্র মানুষদের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার ১০টি উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ফেইজ-২ এর আওতায় ২০১০ সাল থেকে গত জুন পর্যন্ত ২৫৩টি ব্যারাকে ১ হাজার ৮৫টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। এর আগে চট্টগ্রাম জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ফেইজ-১ এর অধীনে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ৩১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার ২৮৮ পরিবারকে পুনর্বাসন এবং আশ্রয়ণ প্রকল্প ফেইজ-২ এর অধীনে ২০০২ সালে থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৮ উপজেলায় ১১ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল।

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে গত জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ৮৫টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্দ্বীপে বেলাল মোহাম্মদ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৮টি ব্যারাকে ৯০টি পরিবার এবং শাহ বাঙালি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৫টি ব্যারাকে ৭৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ফটিকছড়ির উত্তর বারমাসিয়া প্রকল্পে ২৭টি ব্যারাকের মাধ্যমে ১৩৫ পরিবার, রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া পশ্চিম খুরুশিয়া প্রকল্পে ৪টি ব্যারাকে ২০ পরিবার, আন্দরঘোনা প্রকল্পে ১৪টি ব্যারাকে ৭০ পরিবার, সরফভাটা প্রকল্পে ১০টি ব্যারাকে ৫০ পরিবার, জঙ্গল পোমরায় ১৪টি ব্যারাকে ৭০ পরিবার ও জঙ্গল ঘাটচেক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ১০টি ব্যারাকের মাধ্যমে ৫০ পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রাউজানের কদলপুর আশ্রয়ণ-১ এর মাধ্যমে ২৬টি ব্যারাকে ১৩০টি পরিবার, পাহাড়তলি প্রকল্পে ১৬টি ব্যারাকে ৮০ পরিবার, পটিয়ার হাইদগাঁও এলাকায় ৮টি ব্যারাকে ৪০টি পরিবার, বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুর ফতেহারখীল প্রকল্পে ৮টি ব্যারাকে ৪০টি পরিবার, আনোয়ারার বটতলীতে ১০টি ব্যারাকে ৫০টি পরিবার রয়েছে।

এ ছাড়া সাতকানিয়ার মার্দাশায় ১০টি ব্যারাকে ৫০ ও দক্ষিণ রূপকানিয়ায় ১০টি ব্যারাকে ৫০টি পরিবার, বাঁশখালীর জঙ্গল কালীপুরে ১২টি ব্যারাকে ৬০টি পরিবার ও জঙ্গল কালিপুর উজ্জতনগর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫টি ব্যারাকে ২৫ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তবে চন্দনাইশের হাসিমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভূমি নির্ধারণ না হওয়ায় এখনো কাজ শুরু হয়নি।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর