শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ জুলাই, ২০১৯ ০২:১৫

ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু ৪০২টি মানসম্মত লাইন ২৫.২৩%

ঈদযাত্রা নিরাপদ করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু ৪০২টি মানসম্মত লাইন ২৫.২৩%

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় আলোচকরা বন্যাপরবর্তী ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন দ্রুত মেরামত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের সাবেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, সারা দেশে মানসম্পন্ন রেললাইন রয়েছে ৭৩৯ কিলোমিটার, যা মোট রেললাইনের মাত্র ২৫.২৩ শতাংশ। রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ ৪০২টি। লাইনে পাথরস্বল্পতা, রেলক্লিপ ও নাট-বল্টু চুরি হয়ে যাওয়ায় নড়বড়ে ট্র্যাক মেরামতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও যন্ত্রাংশের অভাবে রেললাইনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদুর্ভোগের পাশাপাশি রেলওয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ট্রেন উদ্ধার ও মেরামত এবং লাইন মেরামতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে। রাজধানীতে গতকাল পবার সেমিনার কক্ষে ‘রেললাইনের দুরবস্থা ও রেল দুর্ঘটনা, বন্যাপরবর্তী নিরাপদ ঈদযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পবার সভাপতি আবু নাসের খান। আলোচনা করেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. অতিকুর রহমান।

 প্রবন্ধে বলা হয়, রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর ৫ লাখ ৫৬ হাজার ঘনফুট ক্রাশড স্টোনের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যায় মাত্র ১ লাখ ঘনফুট। বছরে ৫ লাখের বেশি রেলক্লিপ চুরি হয় বা ভেঙে যায়। কিন্তু পাওয়া যায় সোয়া ২ লাখ। নিরাপদ রেলযাত্রার জন্য প্রয়োজন রেললাইন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মেশিন, ওয়ার্কশপ, প্রয়োজনীয় লোকবল ও কঠোর নজরদারি। এ সময় জানানো হয়, সরকার ইতিমধ্যে ১১৩৫.২৩ কিমি রেলপথ পুনর্বাসনসহ ২৯৫টি রেলসেতু সংস্কার করলেও তাতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, রেলের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছে ঠিকই, তবে এখনো রেলে অনেক সংকট। রেলকে পিছিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাব রেলকে ভয়াবহ সংকটে ফেলে দেবে। আবু নাসের খান বলেন, রেলওয়ের আজকের যে করুণ পরিণতি, তা এক দিনে হয়নি। দাতা সংস্থা ও স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার রেল। পাশাপাশি আছে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, নিয়মিত তদারকি ও মেরামতের অভাব, পর্যাপ্ত পাথরের স্বল্পতা, লোকবল ঘাটতি এবং যন্ত্রাংশের সংকট। এসব কারণে ট্রেন দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এতে আরও আলোচনা করেন ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার সরকার, মো. মুসা, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, জেবুন নেসা প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর