Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৫

নিয়োগের যোগ্যতাই যখন পরিবারতন্ত্র

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বাইজিদ ইমন, চবি

নিয়োগের যোগ্যতাই যখন পরিবারতন্ত্র

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট  যোগ্যতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পরিবারতন্ত্র ও আত্মীয়করণ এখানে নিয়োগের যোগ্যতার মাপকাঠি। সব যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে গত কয়েক বছরে এ যোগ্যতাতেই চবিতে নিয়োগ  পেয়ে আসছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা। এটি অনেকটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, প্রভোস্ট, ক্ষমতাসীন দলের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক সবাই এ রীতিতে অভ্যস্ত। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নিয়োগ দিয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েমে সচেষ্ট থাকেন। এতে করে স্থান পাচ্ছে না প্রকৃত  মেধাবীরা। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য। নিকটতম আত্মীয়দের কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত মেধাবীরা বাদ পড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সাবেক প্রভোস্ট ও হলুদ দলের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. সুলতান আহমদ শীর্ষে। তিনি তার আপন ভাইসহ নিকটাত্মীয় শিক্ষক-কর্মকর্তা             ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে পরিবারতন্ত্রের ষোলকলা পূর্ণ করেছেন। এ ছাড়াও উপাচার্য অফিসের সাবেক  ডেপুটি রেজিস্ট্রার মু. হারুন-অর-রশিদ তার ভাই, পুত্র, ভাগনি ও নিকটাত্মীয়-স্বজন নিয়োগ দিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছেন। এদিকে, বনবিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন। যিনি সাবেক প্রক্টর ছিলেন। তিনি তার আপন ভাই, মামাত ভাই, ভাগিনা ও নিকটাত্মীয় নিয়োগ দিয়েছেন প্রায় হাফ ডজন। চবি স্কুল ও কলেজেও তার নিয়োগের বিচরণ রয়েছে। রয়েছেন সাবেক প্রয়াত উপাচার্য প্রফেসর ড. ফজলে হোসেনও। তিনি তার মেয়ের জামাই  থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী নিয়োগ দিয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েমের নতুন অধ্যায় সূচনা করে  গেছেন। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  গোপনীয় শাখায় দায়িত্ব পালনের সুযোগে ডেপুটি  রেজিস্ট্রার মো. শামসুল আলম স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়োগ দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. কামরুল হুদা যিনি ভারপ্রাপ্ত  রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেই নিয়োগের  ক্ষেত্রে আত্মীয়তন্ত্রের নতুন রূপরেখা  দেখিয়েছেন। সাবেক উপাচার্য এম বদিউল আলম তার আপন ভাই, পুত্র, দুই ভ্রাতুষ্পুত্র ও  মেয়ের জামাইসহ এলাকার অসংখ্য লোকজনকে নিয়োগ দিয়ে পরিবারতন্ত্রের নতুন ধারা তৈরি করে গেছেন। এমনই অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দায়িত্বভার গ্রহণ করেই নিয়োগ কমিটিতে নিজে থেকে ছেলেকে নিয়োগ দিয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েমের সূচনা করেন। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে তলব করেছে অনেককেই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মলাভের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ পরিচালনার জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

 এ অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো  পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। এটি ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ নামে অভিহিত। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য এম এ আজিজ খান সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে ৭৩ অধ্যাদেশের মাধ্যমে উপাচার্য নির্বাচনের নীতিমালা কার্যকর করেন। এ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। সে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আলী। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে পরিবারতন্ত্রের ভূমিকাই মুখ্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেতে হলে প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের আত্মীয়-স্বজন হতে হয়। এ যেন এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হতে চলেছে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীন আখতারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউনুস নামের একজনকে ধরিয়ে দেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর