শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৫৪

মন্ত্রিসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নীতি অনুমোদন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রিসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নীতি অনুমোদন

পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীন একটি কোম্পানি গঠনের বিধান রেখে ‘তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক জাতীয় নীতি, ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নীতির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, কীভাবে পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হবে তা নিয়ে নীতিমালায় অনেক কথা আছে। বর্জ্য উৎপাদনকারী কারা কারা আছেন, তাদের উৎপাদিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ও ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি, অর্থাৎ যিনি দূষণ করবেন তিনি টাকা দেবেন। এটা আন্তর্জাতিক নীতি। যিনি দূষণ করবেন তাকে টাকা দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এটি হলো মূলনীতি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পারমাণবিক জ্বালানির পরিমাণ যুক্তিসংগতভাবে সীমিত রাখতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ জ্বালানি অ্যাসেম্বলি সিল করা বাক্সে সংরক্ষণসহ পরমাণু চুল্লির রিঅ্যাক্টর কোরের পরিচালন সময়কালে যে কোনো সময় আনলোড করতে হবে এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে কমপক্ষে ১০ বছর ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ করা যায়। এটা যারা করবেন তাদের জন্য বাইন্ডিং। এ জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন একটা এজেন্সি নিয়োগ করবে। এটার নাম হলো ‘তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোম্পানি’।

অর্থাৎ আরডব্লিউএমসি নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এদের এক্সপার্টেজ থাকবে। এরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করবে। সারা বাংলাদেশে যত অ্যাটমিক এনার্জির বর্জ্য পাওয়া যাবে, সেগুলোর ব্যবস্থাপনা তারা করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পাবনার রূপপুরে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) আওতায়। আইএইএর গাইড লাইন অনুযায়ী এগুলো পরিচালিত হবে। অ্যাটমিক এনার্জি যেহেতু একটি স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক এনার্জি, এটাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তাই একটা গাইড লাইন দরকার। তিনি বলেন, আইএইএর যে গাইডলাইন আছে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সে অনুযায়ী এই নীতিমালাটা তৈরি করা হয়েছে, যেন কোনো রকম দুর্ঘটনা বা বিপদের মধ্যে না পড়তে হয়। বর্জ্যটা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশাল গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে বর্জ্য তা চুক্তি অনুযায়ী সরাসরি রাশিয়া নিয়ে যাবে। এটা আমরা ডিসপোজ (ধ্বংস) করব না। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ায় এগুলো ধ্বংস করা হবে। তাদের বিশাল দেশ, ডিসপোজালের অনেক জায়গা আছে। আমাদের সে রকম জায়গা নেই, আমাদের ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা। চুক্তিতেই বলা হয়েছে, (পারমাণবিক বর্জ্য) তারা সিল করে নিয়ে যাবে এবং ওখানে নিয়ে ডিসপোজাল করবে।’ এ ছাড়া গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১৯ এবং বাংলাদেশ বাতিঘর আইন, ২০১৯-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর