শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪৩

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে ৮৫০ শয্যার হাসপাতাল

কমবে দুর্ভোগ বাড়বে সেবা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে ৮৫০ শয্যার হাসপাতাল

শয্যা সংকট এবং জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ৬৫০ শয্যার চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল। এ হাসপাতালে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ৮৫০টি শয্যা। এরই মধ্যে নির্মিত হয়েছে ১৩ তলার ভবন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক শিশু বর্ষের দিন বহুতল ভবনটির আনুষ্ঠাকি যাত্রা শুরু করার কথা। এর আগে ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাড়ে পাঁচ লাখ বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালের নতুন এই ভবনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। হাসাপতাল সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি ও ব্যক্তি অনুদানের অর্থায়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দে নির্মিত হয়েছে ১৩ তলা ভবনটি। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয়তলা পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে নিচতলায় জরুরি বিভাগ, শিশু বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ, কনফারেন্স রুম স্থানান্তর করা হবে। চালু হলে এটি হবে চট্টগ্রাম বিভাগের বৃহত্তম বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান।         চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি এস এম মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘নতুন হাসপাতালটি পুরো চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্ন। এটি চালু হলে মা ও শিশুসহ জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক ও উন্নত সেবা প্রদান পাবে।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক শিশু বর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রামের কিছু মানবহিতৈষীর উদ্যোগে ৭০ হাজার বর্গফুট আয়তনের চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হয়। ক্রমে চট্টগ্রামে মা ও শিশু হাসপাতালটি দরিদ্র-অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ও সুলভমূল্যে চিকিৎসাসেবায় নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছে। এ হাসপাতালের অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল শামসুন নাহার খান নার্সিং কলেজ, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউট অটিজম অ্যান্ড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ থেকে ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬২ জন এবং বহির্বিভাগ থেকে ১০ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৫ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেন। বর্তমানে অন্তঃবিভাগে ২৬টি ও বহির্বিভাগে ৪১টি বিভাগ এবং ৬৫০টি শয্যা আছে।

জানা যায়, নতুন ৮৫০ শয্যা যুক্ত হলে থাকবে জরুরি বিভাগ, ৪০০ শয্যার শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ, ৫০ বেডের নবজাতক ওয়ার্ড, শিশু নিউরোলজি, মেডিসিন, গাইনি অ্যান্ড অবস, শিশু সার্জারি, জেনারেল সার্জারি, নিউরো সার্জারি, নিউরোমেডিসিন, হৃদরোগ, ইন্টারনাল মেডিসিন, কমিউনিটি মেডিসিন, রেডিওলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, ব্লাড ব্যাংক, রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, আইসিইউ, সিসিইউ, শিশু এইচডিইউ (হাই ডিপেন্টেন্ট ইউনিট), এডাল্ট এইচডিইউ, এডাল্ট সিসিইউ, ব্লাড ট্রান্সফিউশন, ট্রপিক্যাল মেডিসিন, জনস্বাস্থ্য, নাক-কান-গলা বিভাগ, চক্ষু, দন্ত, এডাল্ট ইউরোলজি, থেলাসেমিয়া ইউনিট, সাব-স্পেশালিটি ক্লিনিক, প্লাস্টিক সার্জারি, ইউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারলজি, কিডনি রোগীদের জন্য হেমোডায়ালাইসিস ইউনিট, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিশু বিকাশ কেন্দ্র।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর