শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৫

নাব্য সংকটে ঢাকা-বরিশাল নৌরুট

মারাত্মক হুমকি নিয়ে চলছে বড় বড় জাহাজ

রাহাত খান, বরিশাল

নাব্য সংকটে ঢাকা-বরিশাল নৌরুট

শীত মৌসুম শুরুর আগেই বরিশাল-ঢাকা নৌপথের ৬টি পয়েন্টে নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। নদীতে পলি জমে ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌ-চ্যানেলগুলোতে জাহাজ চলাচল মারাত্মক হুমকির সম্মুুখীন। এমনকি বরিশাল নদীবন্দর সংলগ্ন কীর্তনখোলায় ডুবোচরের কারণে যাত্রীবাহী জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে পন্টুন ছাড়তে পারছে না। জোয়ারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বন্দরেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-রুটের নাব্যতা বাড়ানো না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় হাজারো যাত্রীর প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরিশাল-ঢাকা নৌপথের দূরত্ব ১৬৮ কিলোমিটার। এ রুটে লঞ্চ নিরাপদে চলাচলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ফুট গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বরিশাল-ঢাকা নৌপথের বরিশাল নদীবন্দর এলাকা, শায়েস্তাবাদ, লতা, উলানিয়া, নলবুনিয়া ও কালীগঞ্জ পয়েন্টে এখন ভাটির সময় মাত্র ১ থেকে দেড় মিটার পানি পাওয়া যায়। এজন্য ভাটির সময় ওইসব স্থান দিয়ে যাত্রীবাহী নৌযান চালাতে পারছেন না নৌযান মাস্টাররা। বাধ্য হয়ে জোয়ার আসার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এই রুটের এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের মাস্টার মো. নুরুল ইসলাম জানান, আড়িয়াল খাঁর মোহনা, হিজলার লতা, নলবুনিয়া, উলানিয়া ও কালীগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে হাজারো যাত্রী বোঝাই জাহাজ চালানো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ১০-১২ ফুট ড্রাফটের জাহাজের তলানি ডুবোচরে ঢেকে গেলে লঞ্চের নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না। এ সময় পাশে অন্য কোনো জাহাজ ঢুকে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এমভি পারাবত-১১ লঞ্চের মাস্টার মো. শামীম মোল্লা জানান, বরিশাল নদীবন্দর এলাকা ছাড়াও শায়েস্তাবাদ, লতা, উলানিয়া ও কালীগঞ্জের মূল চ্যানেলে ভাটার সময় মাত্র ১ থেকে দেড় মিটার পানি থাকে। দুটি লঞ্চ ক্রসিং করা যায় না। লতা, উলানিয়া ও কালীগঞ্জে অনেক কোস্টার জাহাজ আটকে থাকে। নাব্যতা সংকটের কারণে কোনো জাহাজ ডুবোচরে ঠেকে অন্য আরেকটি লঞ্চের ওপর কাত হয়ে পড়ে যেতে পারে। এ কারণে প্রতিনিয়ত হাজারো যাত্রীর জানমালের ঝুঁকি নিয়ে পথ চলতে হয় তাদের। সিনিয়র নৌযান মাস্টার মো. মজিবর রহমান অভিযোগ করেন, নৌরুটের নাব্যতা বাড়াতে বিআইডব্লিউটিএ নিজস্ব ড্রেজার দিয়ে বিভিন্ন সময় ড্রেজিং করলেও নদীর পলি নদীতে ফেলায় জোয়ার-ভাটার স্রোতে ওই পলি জমে আবারও নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এতে নাব্যতা সংকটের দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর