শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৪

অবৈধ সোনা আসে বিদেশি জাহাজে

খালাস হয় বন্দরের নিয়ন্ত্রণ এলাকার বাইরে বহির্নোঙ্গরে

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

অবৈধ সোনা আসে বিদেশি জাহাজে

নৌপথ দিয়ে আসছে অবৈধ সোনার চালান। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পণ্য, তেল এবং পাথরবাহী জাহাজে করে প্রতিনিয়তই চট্টগ্রামে আসছে এই অবৈধ সোনার চালান। যা বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভ্যাসেল থেকে খালাস হয়ে বিদেশি জাহাজগুলোতে তেল ও পানি সরবরাহকারী জাহাজে করে বন্দরে প্রবেশের আগেই চলে যাচ্ছে পাচারকারীদের হাতে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা ওপেন সিক্রেটভাবে নৌপথ দিয়ে সোনার চালান এলেও বিষয়টা নিয়ে অবহিত নন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বহির্নোঙরে অবস্থানকালীন জাহাজগুলো বন্দরের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ সময় জাহাজকেন্দ্রিক কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাতে বন্দর হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বহির্নোঙর এলাকা আমাদের আওতার বাইরে।’ কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে নৌপথে সোনার চালান আসে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এখন বিষয়টা নজরে আসায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই বহির্নোঙরে অসংখ্য জাহাজ আসে। কোস্টগার্ডের যে পরিমাণ জনবল ও প্রয়োজনীয় সাপোর্ট রয়েছে তা দিয়ে নৌপথ পুরোপুরি নজরদারি করা সম্ভব নয়। তারপরও সীমিত সামর্থ্য দিয়ে সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে কোস্টগার্ড।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে নৌপথকেই সোনা চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে পাচার চক্রগুলো। এজন্য তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। এ কৌশলের অংশ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান ও কাতার থেকে আসা তেল, পাথর ও পণ্যবাহী জাহাজে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতে তুলে দেন সোনার চালান। দেশে থাকা তাদের সহযোগীদের ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন ও জাহাজের নাম বলে দেয়। জাহাজ যখন বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ থাকে তখন তেল ও পানি দিতে যাওয়া জাহাজগুলোর মাধ্যমে সোনার চালান তুলে দেওয়া হয় পাচারকারী চক্রের সদস্যদের হাতে।  এরপর চক্রের সদস্যরা সোনার চালান নিয়ে ফিরে আসে উপকূলে। এক্ষেত্রে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে। গভীর সমুদ্র থেকে সোনার চালান নিয়ে আসার পর তারা মাঝপথে স্পিডবোটে তুলে দেয়। আবার অনেক চালান সরাসরি বাংলাবাজার নিয়ে যায়।

বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে সোনা চোরাচালানের জন্য নৌপথকে ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। সোনা চোরাচালানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তেল, পাথর এবং পণ্যবাহী জাহাজ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা জাহাজগুলো যখন বহির্নোঙরে এসে অপেক্ষমাণ থাকে তখন তেল ও পানি সরবরাহকারী কিছু জাহাজ ওই জাহাজগুলোতে তেল ও পানি সরবরাহ করতে যায়। তেল সরবরাহ করার ফাঁকে ওই জাহাজগুলোতে নিয়ে আসা সোনার চালান দিয়ে দেওয়া হয় তেল সরবরাহকারী জাহাজে। এরপর ওই চালান নিয়ে আসা হয় উপকূলে। নৌপথ দিয়ে সোনা চোরাচালান অনেকটা ওপেন সিক্রেট। বিষয়টা সবাই জানলেও তা প্রতিরোধে কার্যক্রম পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

ফেইড ফরোয়ার্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তিন ধরনের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। তার মধ্যে তেল ও পাথরবাহী জাহাজগুলো সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। পণ্যবাহী জাহাজগুলো সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা হয়ে চট্টগ্রামে আসে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর