শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৭

শিল্পবর্জ্যে দূষিত হচ্ছে খাল-নদী

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

শিল্পবর্জ্যে দূষিত হচ্ছে খাল-নদী

চট্টগ্রামের পটিয়ার আমজুর হাট-গৈরালার টেক-মনসার টেক-হুলাইন, চরকানাই ও শাকপুরা এলাকায় আলম খাল, বোয়ালখালী খাল, সার্জেন্ট মহি আলম খাল ও গরুলোটা খাল নামে চারটি খাল বহমান আছে। এসব খাল বিভিন্ন গ্রাম হয়ে মিলিটার পুল এলাকার বোয়ালখালী খাল দিয়ে সরাসরি গিয়ে যুক্ত হয়েছে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে। কিন্তু এ চার খালে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে, রাতের আঁধারে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও তরল বর্জ্য। আর এ চার খালের মাধ্যমে বর্জ্যগুলো গিয়ে পড়ছে কর্ণফুলী নদীতে। এভাবে শিল্পবর্জ্যে খাল ও নদীর পানিদূষণ হচ্ছে। অভিযোগ আছে, গত এক দশকে পটিয়ার চরকানাই, হুলাইন, পাচরিয়া, গৈরালার টেক মোহাম্মদনগর ও কোলাগাঁও এলাকায় অন্তত ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় খালগুলোর মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। বর্জ্যরে কারণে সব খালের পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে। শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গৈরালার টেক এলাকার আলম খালের পানি কুচকুচে কালো। অভিন্ন দৃশ্য বাদামতল ও মনসার টেক এলাকার গরুলোটা খালের পানির। দেখে মনে হবে না এগুলো পানি। দেখলে মনে হবে কালো কেরোসিন তেল। এসব খালে কোথাও কোনো ঘাট বা কাউকে পানি ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। বলা চলে পানির কোনো বৈশিষ্ট্যই নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রাতের বেলায় মিল-কারখানা বন্ধ থাকলে সকালে খালের পানি মোটামুটি একটু হলেও সাদা দেখা যায়। কিন্তু মিল-কারখানা চালুর এক ঘণ্টা পরই পানিগুলো সম্পূর্ণ কালো রং ধারণ করে। এসব পানি চাষাবাদ কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী। হুলাইন গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এলাকার খালগুলোর পানি এত বেশি দূষিত হয়ে পড়েছে, এসব খালের পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ পর্যন্ত করা যায় না।’ পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পটিয়ার এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এ ছাড়া কিছুদিন আগে ফুলকলিকে খালের পানিদূষণের জন্য ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এখন ওই এলাকার খালগুলো নিয়ে একটি সরেজমিন তদন্ত করার পরিকল্পনা আছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্বিগুণ-তিনগুণ জরিমানা করা হবে। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেব। এ ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি।’ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর পটিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী উত্তম কুমার বলেন, ‘স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে খালের পানি কালো হয়ে যাচ্ছে। কালো হওয়ায় এসব পানি কেউ ব্যবহার করছে না।’ জানা যায়, পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গ্রামের পানির সংকট নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৫ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট করে। তখন থেকে রিটের নানা প্রক্রিয়া শেষে ২৮ নভেম্বর আদালত পটিয়ার ওই গ্রামগুলোকে ‘পানি সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয় বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, জেলা প্রশাসক ও পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

রায়ে এসব গ্রামে অব্যাহতভাবে সুপেয় পানি সরবরাহ, পানির বিকল্প ব্যবস্থা না করে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে ‘লাল’ বা ‘কমলা’ শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন না করা, আটটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে গ্রামগুলো থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ রাখা এবং দূষণের মাত্রা যাচাই করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কার্যকর বর্জ্য শোধনাগার প্লান্ট ছাড়া পটিয়ায় যেন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান না চলে তা পরিবেশ অধিদফতরকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর