শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৬

ঘাতক রাসেলের স্বীকারোক্তি

শিশু তোফাজ্জলের চোখ উপড়ে পা ভেঙে লাশ বস্তাবন্দী করে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

তাহিরপুরে সাত বছর বয়সী শিশু তোফাজ্জল হত্যাকান্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন নিহতের দাদার ফুফাতো ভাই রাসেল মিয়া। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকারের পর মঙ্গলবার বিকালে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।   এদিকে বুধবার এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া অন্য ৬ জনকে পুলিশ আদালতে হাজির করলে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাসেল মিয়া বলেছেন, ঘটনার দিন তার খাটেই শুয়েছিল শিশু তোফাজ্জল। তিনি নিজে শোয়ার সময় হঠাৎ করে বিছানার ওপর পড়লে তোফাজ্জল চিৎকার করে ওঠে। তোফাজ্জল যাতে চিৎকার না করে সেজন্য তিনি তাকে বালিশচাপা দিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তোফাজ্জল দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। তোফাজ্জলকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে বালিশচাপা দেননি বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু সে মারা যাওয়ার পর হত্যার দায় অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর জন্য তোফাজ্জলের চোখ উপড়ে ফেলে এবং পা ভেঙে তোফাজ্জলের লাশ বস্তাবন্দী করে প্রতিবেশীর বাড়ির সম্মুখে ফেলে রাখেন তিনি।

এই হত্যাকান্ডের পর সন্দেহ হওয়ায় শিশু তোফাজ্জলের চাচা-ফুফু এবং সম্পর্কে দাদা রাসেল মিয়াসহ ৭ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল মিয়াকে সন্দেহ করে পুলিশ। গত সোমবার সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল খুন হওয়া তোফাজ্জলের বাড়ি গিয়ে রাসেল মিয়ার শোয়ার ঘরের খাটের পাশের ওয়ারড্রোব থেকে একটি রক্তভেজা লুঙ্গি ও দুটি বালিশের কভার উদ্ধার করে।

সুনামগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর আশেক সুজা মামুন জানান, রাসেল মিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে মঙ্গলবার বিকালে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আটক তোফাজ্জলের ফুফু শিউলি বেগম, ফুফা সেজাউল কবির ও তার বাবা কালন মিয়া, চাচা সালমান মিয়া, লোকমান মিয়া, হাবিবুর রহমান হবিকে বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, রাসেল মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় অন্যদের রিমান্ডে রাখার যৌক্তিক কারণ না থাকায় তাদের বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে বুধবার বিকালে তাহিরপুরে খেলাঘর নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এলাকাবসী দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।  

উল্লেখ্য, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাঁশতলা গ্রামের জুবায়ের হোসেনের ছেলে ৭ বছরের শিশু তোফাজ্জল চার দিন নিখোঁজ ছিল। শনিবার ভোর রাতে শিশুর চোখ উপড়ে ফেলা পা ভাঙা বস্তাবন্দী লাশ প্রতিবেশীর বাড়ির সম্মুখ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জুবায়েরের ফুফু-ফুফা ও চাচাসহ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওইদিনই আটক করেছিল পুলিশ। পরে রাসেল মিয়া ও শিউলি বেগমের ৫ দিন এবং অন্য ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর