শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ০১:২০

হেলমেট পরে গুলি করেন আরিফুল : ডিবি

পিএস নন বললেন ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

হেলমেট পরে গুলি করেন আরিফুল : ডিবি

রাজধানীর গোপীবাগে নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের পিএস আরিফুল ইসলামকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার রাতে হাতিরঝিল মহানগর প্রজেক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পয়েন্ট ২২ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। তবে নিজের কোনো পিএস নেই বলে দাবি করেছেন ইশরাক হোসেন।

পুলিশ বলছে, গ্রেফতার আরিফুলের বাড়ি বরিশালে। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাকের পিএস। ইশরাকের বাবা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকারও পিএস ছিলেন আরিফুল। গতকাল দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন জানান, রবিবার গোপীবাগ এলাকায় নির্বাচনের প্রচারকালে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবিও ছায়া তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনার তদন্তে আরিফুলের নাম বেরিয়ে আসে। গুলিবর্ষণকারী অস্ত্রধারীকে শনাক্তে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীর মুখম-ল, পরিহিত জামা-কাপড়, জুতা, হেলমেট ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে গুলিবর্ষণের কিছুক্ষণ আগে ধারণকৃত স্থিরচিত্রের সঙ্গে মেলানো হয়। এতে গুলিবর্ষণের আগে আরিফুলকে ইশরাকের সঙ্গে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরে সংঘর্ষ শুরু হলে হেলমেট পরে গুলি করতে শুরু করে আরিফুল। প্রাথমিকভাবে গুলি করার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি নিজেকে ইশরাকের পিএস হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন আরিফুল। ঘটনাস্থল থেকে যে গুলির খোসা পাওয়া গেছে সেই গুলির খোসার সঙ্গে আরিফুলের কাছ থেকে জব্দ করা গুলির মিল পাওয়া গেছে। গুলি ও গুলির খোসা একই কোম্পানির। তার ব্যবহৃত অস্ত্রটি বৈধ নাকি অবৈধ, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে বৈধ অস্ত্র যদি কেউ অবৈধভাবেও ব্যবহার করেন, তাহলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের মিডিয়া টিমের সদস্য খুরশীদ আলম বলেন, ইশরাক হোসেন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, তার কোনো ব্যক্তিগত সহকারী বা একান্ত সচিব নেই। আরিফুল ইসলাম দলের একজন সমর্থক মাত্র। সেই হিসেবে নির্বাচনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে তিনি অন্যদের মতোই নিজ উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, গত রবিবার গোপীবাগ সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের মোড়ে ডিএসসিসি নির্বাচনের গণসংযোগে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। প্রচারণায় তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। ওই সময় হেলমেট পরিহিত একজনকে পিস্তল দিয়ে গুলি করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ডিবি বলছে, গোপীবাগে সংঘর্ষের সময় ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। আরিফুল সেদিন বিএনপির ইশরাকের অনুসারী হয়ে গণসংযোগে অংশ নেন। সংঘর্ষ শুরু হলে পিস্তল বের করে গুলিবর্ষণ করেন। ঘটনার দিন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুলি চালানো হয়েছে। ওই সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা-কর্মীকে সংঘর্ষের স্থানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা এ কাজ করেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর