শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:৪৭

রেলের ৭০টি ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে উচ্চ সুদের ঋণে

অর্থমন্ত্রীর আপত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রেলের ৭০টি ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে উচ্চ সুদের ঋণে

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য কঠিন শর্তের ঋণে ইঞ্জিন কিনছে সরকার। ৭০টি মিটার গেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের জন্য এ ঋণ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য এক্সিম ব্যাংক অব কোরিয়ার কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নেওয়া হবে। এতে ঋণে সুদের হার হবে ৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের জন্য সরকার সময় পাবে ১৯ বছর। এ ছাড়াও থাকছে এজেন্ট ফিসহ নানা শর্ত। তবে এজেন্ট ফির একটি শর্তে আপত্তি জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল অনমনীয় ঋণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির (স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোন) ৩১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রমতে, সাধারণত বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাপানের ঋণদানকারী সংস্থা জাইকার মতো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে নমনীয় সুদে ঋণ নেয়। নমনীয় সুদের ঋণে সুদ হার হয় অত্যন্ত কম। কিন্তু বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়াতে এসব ঋণ দাতা সংস্থাগুলো নমনীয় সুদে ঋণ দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্চ সুদের কঠিন শর্তের ঋণে ঝুঁকছে। এসব ঋণে নমনীয় ঋণের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি সুদ ধরা হয়। পাশাপাশি থাকে কঠিন শর্ত। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে এখন বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ‘৭০টি মিটার গেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রকল্পটি ২০১১ সালে শর্তসাপেক্ষে একনেকে অনুমোদন হয়। কিন্তু প্রকল্পে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে অর্থ পাওয়া যায়নি। এরপর দুই দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু তাতেও সাড়া মেলেনি। তৃতীয় দফায় টেন্ডারের কাগজপত্র এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো হালনাগাদ করে ২০১৪ সালে আবারো দরপত্র আহ্বান করলে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র প্রস্তাব দাখিল করে। এর মধ্যে স্পেনের প্রতিষ্ঠান এম/এস ভোসলোহ ইস্পানা এস এ স্পেন সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৮৬৪ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকার প্রস্তাব করে। তবে পরে এ প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ না দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা কোরিয়ার এম/এস হুন্দাই রোটেম কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়। কোম্পানিটি প্রথম সর্বনি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ৮১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫০ টাকা বেশি প্রস্তাব করে। কোম্পানিটি আনুষঙ্গিক সবমিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৯ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার ৬৩৬ টাকার প্রস্তাব করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এই প্রতিষ্ঠানটিকেই প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত করার সুপারিশ করে। লোন নেগোসিয়েশন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোরিয়া ট্রেড ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন, এক্সিম ব্যাংক অব কোরিয়া এবং কমার্শিয়াল ফ্যাসিলিটিকে চূড়ান্ত করা হয়। ৫ বছর  গ্রেস পিরিয়ড ধরে ঋণ পরিশোধের সময় ধরা হয়েছে ১৯ বছর। ঋণটির গ্র্যান্ট ইলিমেন্ট ১৭ শতাংশ। তিনটি সংস্থাকে ব্যবস্থাপনা ফি বাবদ ১ দশমিক ৫০ শতাংশ করে অর্থ দিতে হবে। আর একটি সংস্থাকে দিতে হবে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

 প্রতিশ্রুতি ফি বাবদ চারটি সংস্থাকেই শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো ১৯ বছর পর্যন্ত এজেন্ট ফি বাবদ ২০ হাজার ডলার করে দাবি করেছে। তবে অর্থমন্ত্রী এতে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বৈঠকে বলেছেন, ২০ হাজার ডলার শুধু প্রথম বছর দেওয়া হবে। পরে আর কোনো অর্থ দেওয়া হবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর