শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০৬

‘এখুন নেতারা কোথায়? অন্তত দুই মুঠ চাল নিয়ে দেখা দিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

‘এখুন নেতারা কোথায়? অন্তত দুই মুঠ চাল নিয়ে দেখা দিক’

রাজশাহীর গ্রামীণ মানুষের- যারা দিন আনে দিন খায়, কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। করোনা সংক্রান্ত লকডাউন চলতে থাকায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তারা বলছে, ‘ভোটের সময় নেতারাদের ভিড় দেখা যায়। এখুন নেতারা কোথায়? আমাদের এই বিপদে তারা অন্তত দুই মুঠ চাল নিয়ে এসে দেখা দিক। সরকারি চাল তো সব লোকে পাবে না। তাহলে অন্যরা কী খাবে? আর চাল পালেও ভাত খাবো কী দিয়ে?’ সরকারি সহায়তার বাইরে এখন পর্যন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে বা এমপিকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা যায়নি। তবে শহরে ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, সরকারিভাবে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছে দিতে তারা কাজ করছেন। কোনো গরিব মানুষ সহযোগিতা না পেলে তারা যোগাযোগ করলেই তার কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো মানুষ অভুক্ত থাকবে না। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভড়–য়াপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম পেশায় ভ্যানচালক। পাঁচ দিন ধরে ভ্যান চালাতে পারেননি। মঙ্গলবার ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কাজও মেলে না আগের মতো, তাই গ্রাম ছেড়ে বেশি ভাড়ার আশায় শহরে। ভ্যান নিয়ে বের হয়েছেন কেন? জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘শুনছি সরকার নাকি সাহায্য দেবে আমাদের। কবে দেবে? ঘরের বাইরে যেতে না পারি, কাজ করতে না পারি, খাওয়ার ওভাবে মরি যাওয়ার পরে সাহায্য দেবে?’

দুর্গাপুরের আমগাছী গ্রামের আনারুল ইসলাম। পেশায় ভ্যানচালক। পাঁচ দিন ধরে ভ্যান চালাতে পারেননি রাস্তায়। এরই মধ্যে বাসায় দুই-তিন কেজি যে চাল ছিল সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। আনারুলের স্ত্রী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চাল ধার করে দুই দিন ধরে ভাত রান্না করছেন। কিন্তু ভাত খেতে তো তরকারি দরকার। তরকারি পাবেন কোথায়। তাই বাধ্য হয়ে দুই কেজি আলু কিনে এনে অধিকাংশ সময় ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে দিন পার করছেন আনারুলের পরিবার। আনারুল জানান, তাদের গ্রামের কিছু কিছু লোক সরকারের উদ্যোগে ১০ কেজি করে চাল পেয়েছে। অধিকাংশ গরিব এখনো সেই চাল পাননি। আবার যারা চাল পেয়েছেন, তারা এরই মধ্যে তরকারি সংকটে পড়েছেন। এখনো এই গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। এমনকি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং এমপিও ব্যক্তিগত কোনো সহায়তার হাত বাড়াননি। ফলে কেবল সরকারি সহায়তার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে। এ নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে। অনেকেই এলাকার নাম ধরে ধরে ফেসবুকে সেই এলাকার এমপিদের নীরবতার বিষয়টি তুলে ধরছেন। রাজশাহীর প্রতিটি গ্রামেই এখন এমন অবস্থা। খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে।

সরকারি নির্দেশে ঘরের বাইরে যেতে না পেরে, রাস্তায় নামতে না পেরে হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন একেকটি গ্রামে। যাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর কর্তাদের কপালেও পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর