শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০২০ ২৩:০৫

চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন চারজন

১০টি আইসিইউ শয্যাই চট্টগ্রামের করোনা রোগীর ভরসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

১০টি আইসিইউ শয্যাই চট্টগ্রামের করোনা রোগীর ভরসা

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে। প্রথম পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট উপসর্গ ছিল ২ থেকে ৩ শতাংশ রোগীর। কিন্তু এখন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রোগীর শ্বাসকষ্ট উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। শ্বাসকষ্টের রোগীদের সংকট অবস্থায় প্রয়োজন হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সেবা। কিন্তু চট্টগ্রামে বর্তমানে আইসিইউ শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যাই এখন সংকটাপন্ন রোগীর সেবায় ভরসা। প্রতিনিয়ত রোগী বাড়লেও নতুন কোনো আইসিও শয্যা বাড়ানো হয়নি। অভিযোগ আছে, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউ দরকার হলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যে আইসিউই সংকটে অন্তত চারজন মারা গেছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকালে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডেই মারা যান করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া আবদুস সালাম নামের এক রোগী। তীব্র  শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর জরুরি প্রয়োজন ছিল আইসিইউর। কিন্তু হাসপাতালের আইসিইউর ১০টি শয্যাই পূর্ণ থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব বলেন, ‘আইসিইউ সেবা দরকার হয়, প্রতিদিন গড়ে এমন অন্তত তিনজন রোগী থাকেন। কিন্তু সিট খালি না থাকায় তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তুলনামূলক খারাপ রোগীকে আইসিইউ সেবা দিতে।’  সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর হারও বাড়ছে। ৫ থেকে ৭ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। আইসিইউ শয্যা বাড়াতে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাড়তি রোগী সামাল দিতে রেলওয়ে হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি হাসপাতাল করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ 

জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রথম থেকে করোনা চিকিৎসা চলছে জেনারেল হাসপাতাল ও বিটিআইটিআইডিতে। কিন্তু কোনোটিতেই আইসিইউ ছিল না। পরে নানা প্রক্রিয়া শেষে জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যা যুক্ত করা হয়। কিন্তু এ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে বাক্সবন্দী থাকা আরও আটটি আইসিইউ চালু করার কথা থাকলেও সেগুলো এখনো চালু হয়নি। তাছাড়া বুধবার থেকে চমেক হাসপাতালে ১০০ শয্যার ইউনিট চালু হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয় মোট এক হাজার ৩১৮ জন। মারা যান ৪৯ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত হয় ৯০ জন। এর মধ্যে ৭৭ জন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার এবং ১৩ জন বিভিন্ন উপজেলার।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর