শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ আগস্ট, ২০২০ ২৩:৩৫

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হবে ওয়ালটন

আলী রিয়াজ

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হবে ওয়ালটন
প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ

ওয়ালটনের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিতে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। সারা দেশে প্রতি বছর যতসংখ্যক ফ্রিজ বিক্রি হয় এর ৭৫ শতাংশ ওয়ালটনের। এসি বিক্রিতে দেশে শীর্ষে ওয়ালটন। ইলেকট্রনিক অন্যান্য পণ্যের বিক্রিতেও ওয়ালটন শীর্ষে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকার বাজারেও ওয়ালটনের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ওয়ালটনের লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে “মেইড ইন বাংলাদেশ” ট্যাগযুক্ত ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তিপণ্য ছড়িয়ে দেওয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির একটি হবে ওয়ালটন। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, দেশের ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনজগতে পথিকৃৎ ওয়ালটন। মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাপন সহজ করতে দেশীয় এই কোম্পানি প্রযুক্তির জগতে এখন ব্র্যান্ড। কোম্পানিটি হাতের মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কমপ্রেসর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, লিফট, ডাই-মোল্ড, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন্সসহ এখন উৎপাদন করছে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও অন্যান্য এক্সেসরিজ। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি শুরু করে ওয়ালটন। সারা দেশে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করতে ওয়ালটন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য হাতের নাগালে নিয়ে আসে। দেশের প্রায় সব পরিবারেই ওয়ালটনের রেফ্রিজারেটর আজ শোভা পাচ্ছে। মানুষ রেফ্রিজারেটরের নাম হিসেবে ওয়ালটনই বলে থাকে। প্রতিনিয়ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারের সংযোজন করছে ওয়ালটন। এখন উৎপাদন করছে কমপ্রেসরের মতো উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য, যা দক্ষিণ এশিয়ায়  ভারতের পর শুধু বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ওয়ালটনের বিভিন্ন সফলতা নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেন গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ।

করোনার প্রকোপ সম্পর্কে গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘করোনার কারণে সারা বিশ্বের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। আশা করি এ দুর্যোগ শিগগিরই কাটিয়ে উঠব। ওয়ালটন দেশের বৃহত্তম বিপণন কোম্পানি, যা একমাত্র উৎপাদননির্ভর প্রতিষ্ঠান। আমরা দেশে পণ্য উৎপাদনে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা রপ্তানি করছি। ওয়ালটনের বিশাল কর্মকান্ডে যুক্ত কর্মীরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন।’

তিনি বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে দেশে ফ্রিজের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। উচ্চমানের পণ্য ও সেবা সবার হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে সারা দেশে আমাদের ১৭ হাজারের বেশি আউটলেট রয়েছে। গত বছর আমরা কোরবানির আগে এক মাসে প্রায় ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি করেছি। এ বছর সেটি এখন পর্যন্ত ৬ লাখ হয়েছে। বার্ষিক হিসেবে প্রতি বছর ফ্রিজ বিক্রি হয় প্রায় ২০ লাখ। এসি বিক্রি হয় ৩ লাখ এবং টেলিভিশন প্রায় ৭ লাখ। একসময় বাংলাদেশ সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করত। কিন্তু এখন ইলেকট্রনিক পণ্য বলতে সবাই ওয়ালটনকেই বোঝে। আমাদের বড় সাফল্য এখানেই যে, বিদেশি পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের যে ঝোঁক ছিল, তার অবসান ঘটেছে। ক্রেতারা এখন গর্বের সঙ্গে সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশে তৈরি পণ্য কেনে। শুধু দেশেই নয়, বিশ্ববাজারেও “বাংলাদেশে তৈরি” ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তিপণ্য ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।’

গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘ওয়ালটনের পণ্য সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদন করা হয়। আমরা আলাদা করে গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিনিয়োগ করেছি। দেশের বাইরে যখন পণ্য রপ্তানি করা হয়, সেখানে সে দেশের মান নির্ণয়কে গুরুত্ব দিতে হয়। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ মানের কাঁচামাল দিয়েই আমরা পণ্য উৎপাদন করি। বাংলাদেশে যা পাওয়া যায় সেসব তো আছেই, পাশাপাশি ওয়ালটন পণ্যের কাঁচামাল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস নিয়ে অনেকের মনে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, এসির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। এটা পুরোপুরি গুজব। কারণ কমপ্রেসর ভেদ করে কোনোভাবেই ভাইরাস আসার আশঙ্কা নেই। ওয়ালটনের এসি বিশ্বের যে কোনো এসির তুলনায় ভালোমানের। আমাদের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করা। দেশের প্রবৃদ্ধিতে অংশ নেওয়া।’

 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর