শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:০৩

সাভারে মাদকের রমরমা ব্যবসা, প্রশাসন নীরব

নাজমুল হুদা, সাভার

ঢাকার সাভারে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার ও গাঁজার মতো মাদক। কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে, আবার কখনো তাদের সামনেই বিভিন্ন জায়গায় চলছে এসব মাদক বিক্রি। সাভারে ব্যাংক কলোনির এক মোটরসাইকেলচালক মুঠোফোনে একজনকে বলছে, ‘বাবা তুমি কোথায়?’ এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ‘অনটেস্ট’ লেখা পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির রাব্বী, যাকে বাবা নিজাম রাব্বী নামে সবাই চেনে। সঙ্গে নিয়ে আসে ‘বাবা’, মানে ইয়াবা।

সাভার সরকারি হাসপাতালের প্রধান গেট থেকে সোজা উত্তর দিকে গিয়ে মানিব্যাগ থেকে কয়েক পিস ‘বাবা’ বের করে দেন ওই যুবকের হাতে। গুনে নেন নগদ টাকা। টাকা পেয়ে রাব্বী মোটরসাইকেল নিয়ে হাওয়া। এটি শুধু ব্যাংক কলোনি ও সাভার সরকারি হাসপাতালের সামনে নয়, বিনোদন কেন্দ্র নন্দন পার্ক, সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন মার্কেটের সম্মুখভাগসহ সর্বত্র একই চিত্র। আশুলিয়ায় শতাধিক যুবক ভ্রাম্যমাণ               মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর বেশির ভাগ সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও রয়েছে তাদের সুসম্পর্ক। এ ছাড়া পুলিশ যাদের সোর্স হিসেবে কাজ করায়, তারাও এখন মাদক ব্যবসায় জড়িত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারে ২ শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। এর মধ্যে সাভার কাঁচাবাজার, নামাবাজার, আশুলিয়া, কাউন্দিয়া দ্বীপ, ইমান্দিপুর, মজিদপুর, ব্যাংক কলোনি, রাজাসন, বিরুলিয়া, আমিনবাজার, সাধাপুর, বক্তারপুর বেদেপল্লী, নিরিবিলি, নয়ার হাট, জোড়পুল, হেমায়েতপুর, আলমনগর, আনন্দপুর, কর্ণপাড়া, টানগেন্ডা, মধ্য গেন্ডা, খালাসীপাড়া, নামা গেন্ডা, ব্যাংক টাউনসহ বেশ কয়েকটি মাদকের স্পট উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বাজার রোডের একটি ধানের চাতালে ও নামাবাজার ফেন্সি সুপার মার্কেটে মাদকের অনেক বড় স্পট রয়েছে। সাভারে বড় দুটি বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কের সামনে অবাধে চলছে ইয়াবা ব্যবসা। ভ্রাম্যমাণ মাদকের কয়েকটি টিম এখানে সব সময় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদকের এসব স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে সাচ্চু, সিদ্দিক, আব্বাস, মেজর, নিত্যানন্দ, হারুন, স্বপন, রাজু, ভা-ারিসহ আরও অনেকে। এসব স্পটে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে মাদক বিক্রি হয়। এমনকি যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেটও পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।

 

সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ী গ্রেফতারে প্রশাসনের বিশেষ কোনো তৎপরতা নেই। মাদকসেবীরাই এখন বাড়তি আয়ের আশায় ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে, যাদের অনেকেই পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্স পড়ুয়া মামুন হোসেন জানান, শুধু মাদকই শেষ নয়, মাদকের ছত্রচ্ছায়ায় সাভার হয়ে উঠেছে অপরাধীদের অভয়ারণ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদক ব্যবসায়ী জানান, থানা পুলিশের কিছু কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন। তাই তাদের এ ব্যবসা চালাতে খুব একটা সমস্যা হয় না।

এ ব্যাপারে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক কেনাবেচা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান দাবি করেন, আশুলিয়ায় বড় ধরনের কোনো মাদক স্পট নেই।

সাভার মডেল থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, মাদকের নির্দিষ্ট কোনো স্পট নেই। ভ্রাম্যমাণভাবে কিছু মাদক কেনাবেচা হতে পারে। তবে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে তার কোনো আপস নেই। মাদক নির্মূলে তারা অভিযান পরিচালনা করছেন।

এদিকে সাভারে মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর নুসরাত জাহান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সমাজের সব মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর