শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০১:০১

পানির ট্যাংক থেকে উদ্ধার শিশুটি অপহরণ হয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শ্যামপুরে পানির ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে শিশুটির পরিচয় শনাক্তের পর এ তথ্য জানিয়েছেন স্বজনরা। কিন্তু কারা কী কারণে তাকে অপহরণ করেছিল সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি পরিবার। শিশুর স্বজনরা জানান, পানির ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম নিহাদ ইসলাম (৩)। তাদের বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বেংহাড়ী গ্রামে। হানিফ আলী ও নার্গিস বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে সে। পরিবারের সঙ্গে থাকত গাজীপুরের গাছা থানাধীন উত্তর খাইলকুর এলাকার হারুনের বাড়িতে। বাবা-মা দুজনেই সোয়েটার কারখানার শ্রমিক। ঢামেক মর্গে শিশুটির বাবা হানিফ জানান, টেলিভিশনে সংবাদের মাধ্যমে শ্যামপুরে শিশুর লাশ উদ্ধারের খবর পাই। এরপর থানায় বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে মর্গে এসে আমার ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করি। তার কোমরে একটি সুতার সঙ্গে চাবি ও ঘণ্টী বাঁধা ছিল। সেগুলোও দেখতে পেয়েছি। তিনি জানান, বাসার অদূরে সততা মিনি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন শিশুটির মা নার্গিস। প্রতিদিন মা তাকে সঙ্গে করে সেই কারখানায় নিয়ে যেতেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে কারখানায় নিয়ে যান তাকে। এরপর তিনি কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন। শিশুটি কারখানার কেচি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই দিন ২০ ফেব্রুয়ারি সেখান থেকে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে যায়। পরে সিসি ক্যামেরা দেখে এই ঘটনা জানতে পারেন তারা। ওই দিন দুপুরেই তারা গাজীপুর গাছা থানায় একটি অভিযোগ দেন। শিশুটির মামা সাদ্দাম হোসেন জানান, এলাকায় তাদের সঙ্গে কারোরই কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

 শিশুটিকে কী কারণে কারা অপহরণ করেছে এ বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। আমরা এ ঘটনায় অপরাধীর বিচার চাই।

শ্যামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার শ্যামপুর করিম উল্লাহবাগ এলাকার ৩৮-এ নম্বর বাড়ির তিন তলার ছাদের ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। গতকাল স্বজনরা মৃতদেহটি শনাক্ত করেছে। গতকালই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আশা করি খুব দ্রুত গ্রেফতার করতে পারব।

ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, শিশুটির মৃতদেহ থেকে ভিসেরাসহ আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। বাহ্যিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন বোঝা যায়নি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর