শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনা ডেঙ্গুু জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম

প্রকৃতি ও কর্তৃপক্ষের কাছে অসহায় নগরবাসী ► অন্তহীন ভোগান্তি

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

করোনা ডেঙ্গুু জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় পাহাড়ধস হয়। আরও ধসের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন অনেকেই -বাংলাদেশ প্রতিদিন

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পিতা-পুত্রের মৃত্যু হয় ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে। মায়ের মৃতু্যুর পর শূন্য শয্যায় ভর্তি করা হয় সংকটাপন্ন পুত্রকে। দৈনিক মৃত্যু হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ জনের। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে শনাক্ত হয়েছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগী। ফলে বাড়ছে আতঙ্ক-উদ্বিগ্নতা। আছে ডেঙ্গুর প্রকোপের শঙ্কা। টানা বর্ষণে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ভারী বর্ষণে ঘটেছে পাহাড়ধস। প্রাকৃতিক, মৌসুমি রোগ ও বৈশি^ক মহামারীর কবলে পড়ে এখন বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম। অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে মানুষকে। ওষ্ঠাগত নাগরিক জীবন। প্রকৃতি ও কর্তৃপক্ষের কাছে অসহায় নগরবাসী। অন্তহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই শূন্য নেই আইসিইউ কিংবা হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা।

ফলে করোনার কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের প্রায় দেড় কোটি মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ে। জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বেসরকারি সাতটি হাসপাতালের কোনোটিতেই শূন্য নেই আইসিইউ বা সাধারণ শয্যা। চমেক হাসপাতালে এক দিনেই মারা গেল ১৯ জন এবং জেনারেল হাসপতালে মারা গেছেন ৩ জন। চিকিৎসা চলছে চমেক হাসপতালের বারান্দায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পরই ৯০ শতাংশ রোগীরই প্রয়োজন হচ্ছে হাই ফ্লো অক্সিজেন কিংবা আইসিইউ শয্যার। কিন্তু বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি যে কোনো হাসপাতালেই জীবন রক্ষার এ দুটি উপকরণের চরম সংকট। বর্তমানে চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা আছে ৪৩টি, হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা আছে ৪৭টি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৬৯টি এবং ভেন্টিলেটর আছে ৩৮টি। পক্ষান্তরে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা আছে ১১৯টি, হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলা আছে ১২৪টি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ২৪টি এবং ভেন্টিলেটর আছে চারটি। এরপরও চলছে চরম সংকট। অন্যদিকে, টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের নিম্নাঞ্চলে জমেছে পানি। সড়কে জমে থাকা পানি ঢুকেছে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে। তদুপরি লকডাউনে ঘরে থাকা মানুষও এখন পানিবন্দী। বের হলেও মুখোমুখি হতে হচ্ছে কষ্টের। ফলে বেড়েছে দুর্ভোগ, ভোগান্তি। শ্রাবণের টানা বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। পক্ষান্তরে বৃষ্টিতে জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হলেও পড়তে হয় লকডাইনের কড়াকড়িতে। তাছাড়া ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। সঙ্গে তাড়া করছে মৌসুমি রোগ ডেঙ্গু। তাছাড়া গতকাল নগরের কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় পাহাড়ধস হয়। এতে হতাহত না হলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘পাহাড়ধস প্রতিরোধে গত মঙ্গলবার থেকেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ কাজ করছেন। এরই মধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। তাদের খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাছাড়া করোনার চিকিৎসায় এখন সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও শয্যা বৃদ্ধি করানো হচ্ছে।’ চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, করোনা, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্তসহ নানা কারণে নগরবাসীর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তবে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চলছে চিকিৎসা। তবে রোগীর তুলনায় শয্যা কম হওয়ায় ক্ষেত্রবিশেষে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পরই রোগী সংকটাপন্ন হয়ে যাচ্ছে। রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ারও সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না।

 সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭ জন এবং নতুন করে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৩১৫ জন। গত বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত হন ৭৯ হাজার ৭৫১ জন।

 এর মধ্যে মহানগরে ৫৯ হাজার ৮২২ জন এবং উপজেলায় ১৯ হাজার ৯২৯ জন। ইতিমধ্যেই মারা গেছেন ৯৪৯ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৫৬৯ জন ও উপজেলায় ৩৮০ জন। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ১১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা চলছে।   

এই বিভাগের আরও খবর