শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:১৯

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

হাওরে বাড়ছে পানি ♦ তলিয়ে যাচ্ছে রোপা আমন

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
Google News

মেঘনা অববাহিকা ছাড়া দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া তিস্তা অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এদিকে ডালিয়া সমতল স্টেশনে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরে বাড়ছে পানি, তলিয়ে গেছে রোপা আমন। গতকাল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মেঘনা অববাহিকা ছাড়া দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

চর অঞ্চলে প্লাবিত : উজানের ঢলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর এলাকার শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এ ছাড়া চর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজে রক্ষায় ৪৪ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় আমন ধান ও সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে কষ্টে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। ঘরে পানি ওঠায় রান্না করতে পারছেন না। পরিবারগুলো মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও অব্যাহত ভাঙনে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার উপজেলার চর সিন্দুর্না ও পাটিকাপাড়া এলাকার দুইশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চর সিন্দুর্নার কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ-মাদরাসা। সিন্দুর্না ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী গ্রামের শতাধিক বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।

হাওরে বাড়ছে পানি : গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের রোপণকৃত রোপা আমন। পানি বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে রোপা আমনের সব খেত তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা। সরেজমিন দেখা গেছে, হাওর কাউয়াদীঘির পূর্বাঞ্চলের হাওর পাড়ের কুবজার, শশ্যসুতা, ছবুরবন্দ মৌজায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে শুধু বোরো চাষাবাদ হতো এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সে সব জায়গায় রোপা আমন আবাদ হচ্ছে। কিন্তু বিগত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে কৃষকের অনেক খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানিবন্দী হাজারও পরিবার : তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চরাঞ্চলসহ তীরবর্তী এলাকার তিনটি ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গতকাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলীমা বেগম নোহালী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, কয়েকটি চরের বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। তাদের জন্য কোলকোন্দ ইউনিয়নে ৬ মেট্রিকটন, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে তিন মেট্রিকটন ও নোহালী ইউনিয়নে এক মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর