শুক্রবার, ১০ জুন, ২০২২ ০০:০০ টা

রাজশাহীতে এক যুগে সবজির উৎপাদন বেড়েছে ১৬ গুণ

কমেছে ধান চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে এক যুগে সবজির উৎপাদন বেড়েছে ১৬ গুণ

রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর কালুরডাইং গ্রামের বাবু শেখ আগে বছরে একবার ধান এবং একবার সবজি চাষ করতেন। এখন সারা বছর শুধু সবজিই চাষ করেন। ধানসহ অন্য ফসলে কৃষকরা অনেকটাই অনিশ্চয়তা কাটাচ্ছিলেন। অনেক সময় চাষের খরচ উঠাতে পারছিলেন না। সবজি চাষে ফলন ভালো ও প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন। তাই ধানের বদলে এখন সারা বছর সবজি চাষ করেন। তার মতো রাজশাহী অঞ্চলের অনেক চাষি ধান ছেড়ে বাড়াচ্ছেন সবজি চাষাবাদ। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, ২০১০ সালে রাজশাহীতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয় ১৯ হাজার ৪০৮ হেক্টর জমিতে। তখন উৎপাদন হয় তিন লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন। আর ২০২০ সালে সবজি চাষ হয় ২৭ হাজার ৩৩৯ হেক্টর জমিতে। ২০২১-২২ অর্থবছরে চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে। সবজি উৎপাদন হয় ৫৪ লাখ ২৪ হাজার ৬০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এ এক যুগ বা ১২ বছরে জমি বেড়ে হয়েছে প্রায় দেড় গুণ। পক্ষান্তরে সবজির উৎপাদন বেড়েছে ১৬ গুণ। কৃষি বিভাগ ও গবেষকরা বলছেন, আগে যেসব জমিতে শুধু শীতের সময় সবজির আবাদ হতো এখন এমন অনেক জমিতেই বছরজুড়ে সবজি চাষ হচ্ছে। রাজশাহীর দুর্গাপুরের কৃষক ফারুক হোসেন আগে জমিতে করতেন ধান চাষ।

 হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ধান পেলেও সে অনুযায়ী দাম পেতেন না। কোনো কোনো বছর খরচের টাকা উঠত না ধান চাষে। সিদ্ধান্ত নেন জমি ইজারা দেবেন। আর কোনো চাষাবাদই করবেন না।

পরে কয়েকজনের পরামর্শে জমি কিছুটা উঁচু করে শুরু করেন মৌসুমি সবজির চাষ। অল্প সময়ে লাভের মুখ দেখেন। তিন বছর ধরে সবজিতে তিনি লাভ করে আসছেন। এখন আর্থিক অসচ্ছলতা দূর হয়ে বাড়িয়েছেন চাষের জমিও। ফারুক বলেন, ‘‘সাপ্তাহিক হাটবারে আমরা ফসল উঠাই। বাজারে বেশ চাহিদা থাকায় দামও পাচ্ছি ভালো। সারা বছরই কোনো না কোনো সবজি থাকে জমিতে। কখনোই লোকসান হয়নি।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ‘দিন দিন কৃষকের সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সেই সঙ্গে মানুষেরও সবজির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আগাম জাতের সবজি চাষ বেশি হচ্ছে। এতে লাভবানও হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, সারা দেশে ১২ বছর আগের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে। রাজশাহীর পবার বেশ কিছু এলাকা সবজির জন্য বিখ্যাত। এবারও বেশি চাষ হয়েছে। অনেকেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষ করছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের পরিচালক এম মনজুর হোসেন বলেন, ‘সবজির আবাদ অনুপাতে উৎপাদন এখন অনেকগুণ বেড়েছে। এর বেশ কয়েকটি কারণ আছে। যার একটি একই জমিতে এখন সারা বছরে তিন-চারবার সবজির চাষ হচ্ছে। আগে হয়তো একবার বা বড়জোর দুবার হতো। আমরা যেগুলোকে শীতকালীন সবজি বলি, তার অনেকগুলোই এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। কৃষকরা এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখেছেন। উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতির ব্যবহার হচ্ছে।’

তিনি বলেন, যেসব জাতের ফলন বেশি সেগুলোর চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন, এ কারণে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর