রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৩ ০০:০০ টা
ফিরে দেখা ২০২২

ধীরগতির উন্নয়ন জটে ভোগান্তি খুলনায়

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও ধীরগতির সংস্কার কাজে বিগত ২০২২ সাল চরম ভোগান্তিতে কেটেছে খুলনা নগরবাসীর। সংস্কার কাজে কোথাও রাস্তা ড্রেন খুঁড়ে মাটির স্তূপ, ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন। সমন্বয়হীনতায় কখনো সড়ক বিভাগ, কখনো ওয়াসা, বিদ্যুৎ, টিঅ্যান্ডটির সংস্কার কাজে বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলেছে। এতে ধুলোবালির শহরে বিঘ্নিত হয় যানচলাচল, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনাকালে ২০২০ ও ২০২১ সালে সড়কের সংস্কার কাজ একপ্রকার বন্ধ ছিল। তবে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ পাওয়ায় সে সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া ও কাজের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। ২০২২ সালে একই সঙ্গে ওই বছর ও এর আগের দুই বছরের উন্নয়ন কাজও শুরু হয়। তবে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে ধীরগতির উন্নয়ন জটে ভোগান্তি বাড়তে থাকে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) পূর্ত শাখার উচ্চমান সহকারী হেমায়েত উদ্দিন খান বলেন, বর্তমানে নগরীতে ৭৭টি ড্রেন, খাল স্লুইসগেটের সংস্কার কাজ চলছে। এ ছাড়া ৮৪টি সড়কের কার্পেটিং, সিসি, আরসিসি ঢালাই কাজের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজ ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ওয়াসার জন্য অনেক কাজ করা যাচ্ছে না। সারা শহরজুড়ে ওয়াসা খোঁড়াখুঁড়ি করছে, ফলে কেসিসির অনেক সংস্কার কাজ হ্যাংগিং (ঝুলন্ত অবস্থা) হয়ে আছে।

জানা যায়, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তি ছিল বছরজুড়েই। ২০১৩ সালে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০২০ সালে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫৯ কোটি টাকা হয়। প্রায় নয় বছর পর কেডিএ ২০২২ সালে সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রূপসা মোড় থেকে খানজাহান আলী ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কটি যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এদিকে ময়লাপোতা থেকে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত চার লেন সড়কের কাজ বিগত বছরের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। সড়কটির কাজ শেষ হতে আরও ৫-৬ মাস সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

একইভাবে সামছুর রহমান রোড, মুজগুন্নি সড়ক, হাজী ইসমাইল রোড, শেখপাড়া বাজার রোড, জোড়াকল বাজার, জিন্নাহপাড়া মেইন রোড, রূপসা স্ট্যান্ড রোডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধীরগতিতে চলছে সড়ক ড্রেনের নির্মাণ কাজ। এতে সড়কে যানজট ও ভোগান্তি বাড়ছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ্জামান বলেন, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ ভোগান্তির মূল কারণ। সময়মতো কাজ শেষ না করলে অযোগ্য ঠিকাদারদের কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত। এদিকে সড়ক ও ড্রেনে কাজ শেষ না হতেই ওয়াসা আবারও খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেছে। ময়লাপোতা থেকে জিরোপয়েন্ট চার লেন সড়কে কাজ, ভৈরব সেতু, খুলনা-মোংলা রেললাইন, শিপইয়ার্ড সড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বছরের পর বছর ধরে কাজ চলছে। ফলে খুলনাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কাজও অনেকখানি পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে আগামী মার্চের মধ্যে উন্নয়ন কাজ শেষ করার কথা বলছেন কেসিসি কর্মকর্তারা। সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘করোনাকালে দুই বছর আমরা কাজ করতে পারিনি। টেন্ডার দিয়েছি কিন্তু কাজ করা যায়নি। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ক্ষতির আশঙ্কায় পিছিয়ে যেতে হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের এলজিইডির এস্টিমেট অনুযায়ী রেট দিয়ে টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু এখন দেখা গেছে নির্মাণসামগ্রীর দাম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে ঠিকাদাররা লস এড়াতে কাজে বিলম্ব করছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

সর্বশেষ খবর