হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন আসন পেতেছিলেন সীমান্ত জনপদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি ছোট পাহাড় বা টিলায়। তাঁর নামানুসারে নাম হয় ‘শাহ আরেফিন টিলা’। স্থানীয়রা ডাকে ‘সারফিন টিলা’ নামে। একসময় প্রতি বছর এখানে অনুষ্ঠিত হতো শাহ আরেফিনের ওরস। হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ যেত সেখানে। কিন্তু পাথরখেকো লোভাতুর মানুষের থাবায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ঐতিহাসিক স্থানটি। সুউচ্চ ছোট পাহাড়টি এখন ক্ষতবিক্ষত কঙ্কালসার বিরানভূমি। সিলেটের বাকি সব কোয়ারি থেকে পাথর চুরি বন্ধ হলেও শাহ আরেফিনের টিলায় এখনো চলছে লুট। গতকাল জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সরেজমিন গিয়ে লুটের প্রমাণ পান। অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করেছেন পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ছয়টি লিস্টার মেশিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি টিলায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ.)। প্রায় ৭০০ বছর আগের এ স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয় লোকজন ওই টিলার নাম দেন শাহ আরেফিন টিলা। বিশ্রাম গ্রহণের স্থানটি সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছিল স্থাপনা। ১৩৭.৫০ একর আয়তনের টিলাটি একসময় ধর্মীয় স্মৃতিবাহক হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু তিন দশক আগে ওই টিলা থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাথর উত্তোলন শুরু করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পাথরখেকোদের আগ্রাসন। সুউচ্চ টিলা কেটে গভীর গর্ত তৈরি করে তারা পাথর উত্তোলন করেন। পাথরখেকোদের থাবায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সংরক্ষণ করে রাখা শাহ আরেফিনের আসনস্থল। টিলা কেটে পরিবেশ ধ্বংস করার অভিযোগে ২০১৬ সালে পাথর উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় প্রশাসন। কিন্তু থামেনি লুটের মচ্ছব।
কয়েক মাস ধরে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানের কারণে সিলেটের সাদাপাথর, জাফলংসহ সব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু শাহ আরেফিন টিলা থেকে চুরি করে পাথর উত্তোলন চালু রাখে একটি চক্র। পাথর লুটের খবর পেয়ে গতকাল শাহ আরেফিন টিলায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম অভিযান চালিয়ে পাথর লুটের প্রমাণ পেলেও হাতেনাতে কাউকে আটক করতে পারেননি। অভিযানকালে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ছয়টি লিস্টার মেশিন জব্দ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, ‘পাথরখেকোরা ইতোমধ্যে শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে ফেলেছে। টিলা ধ্বংস করে তারা পাথর লুট করেছে। এখন থেকে যে কোনো মূল্যে ওই টিলা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে। যারা শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’