সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সন্ধ্যায় ধানমন্ডির একটি জিমনেসিয়াম থেকে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে আনিস আলমগীরকে ছেড়ে দিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। ডিবির একটি সূত্র জানায়, ডিবিপ্রধান আনিস আলমগীরের সঙ্গে কথা বলবেন এ কারণে তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন ব্যবহার করছেন এবং তার পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। ডিবি কার্যালয়ে থাকাবস্থায় আনিস আলমগীর নিজেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে আমাকে আনা হয়। ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- তাদের প্রধান আমার সঙ্গে কথা বলবেন।’
ছেড়ে দিলে ঘেরাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে নিয়ে বিষোদ্গার করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে ডিবি হেফাজতে থাকা সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার না করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে বলে আলটিমেটাম দিয়েছে গণ অভ্যুত্থানের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম জুলাই ঐক্য। জুলাই ঐক্য জানায়, কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ সহচর, সাংবাদিকতার নামে তথ্যসন্ত্রাস করা আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। প্রকাশ্যে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া, জুলাইয়ের স্পিরিট নিয়ে কটূক্তি এবং ওসমান হাদির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে আনিস আলমগীররা। আমরা জানতে পেরেছি, সরকারের উচ্চপর্যায়সহ ভারতীয় লবিস্টরা তাকে ছাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।
জুলাই ঐক্য আরও জানিয়েছে, অবিলম্বে আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু আনিস আলমগীর নয়, যারা ভারতীয় অর্থে বাংলাদেশে তথ্যসন্ত্রাস ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এদের মধ্যে অন্যতম পান্না, আবদুন নুর তুষার, এম আজিজ ও শাহেদ আলম। গণ অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে টকশোতে বসে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যাযোগ্য করে তোলে তারাও খুনি। তাদের বিচার না হলে বাংলাদেশে ভারতীয় প্রক্সিরা ধ্বংস হবে না। আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বিষোদ্গার ও জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার পক্ষে নানা ধরনের পোস্টের অভিযোগে অনেকদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়াও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ছাড়ার পর তার বাড়ি ও অভ্যুত্থানের স্মৃতিরক্ষায় নির্মিত গণভবন জাদুঘর আওয়ামী লীগ গুঁড়িয়ে দেবে বলে মন্তব্য করেছিলেন আনিস আলমগীর। সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেছিলেন, আমি বেঁচে থাকি কি না জানি না। আপনি লিখে রাখেন, এই গণভবন আরেকদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হবে। এখানে যে স্মৃতি জাদুঘর বানাচ্ছে না! আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের কেউ যদি আবার ক্ষমতায় আসে- প্রথম যেটা ভাঙবে, সেটা হচ্ছে এই স্মৃতি জাদুঘর। কারণ, আপনি জাদুঘর জাদুঘরের জায়গায় করবেন।