দেশে চলমান এলপিজি অটোগ্যাস সংকটের কারণে পরিবহন খাত ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গতকাল সকালে ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা এ চিত্র তুলে ধরেন।
সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও জ্বালানি সাশ্রয়ী, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারের উৎসাহে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ১ হাজার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপিত হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়। যার মধ্যে পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার টন। এই সামান্য পরিমাণ এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো-চাহিদা অনুযায়ী অটোগ্যাসে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানিসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করা এবং ভবিষ্যতে সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বিকল্প উৎস থেকে আমদানির ব্যবস্থা করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসাইনসহ অন্য নেতারা।