টাকা, ক্ষমতা এবং ধর্ম-এই তিনটি বিষয় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিকরণ করে চলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে- আমরা কী করছি? রাজনৈতিক দলগুলোকে এই টাকা, ক্ষমতা এবং ধর্মের দ্বন্দ্ব দূর করতে হবে। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে। সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (বিএলএসএটি) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ। ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বাকস্বাধীনতা সবার আছে, শুধু সরকারের বাকস্বাধীনতা নেই। বিচার বিভাগের সবকিছু উচ্চ আদালতের কাছে দেওয়া হয়েছে। ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ সংস্কার। মানবাধিকার আইন করেছি, যা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভালো।
আমাদের লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই উপকৃত হচ্ছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ৯০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্য থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই মুক্তি পেয়েছে।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মানবাধিকার আপেক্ষিক নয়, মানবাধিকার সর্বজনীন। আমরা জেনেটিক্যালি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ধারণা করি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি দেশের মূলনীতি পরিচর্যা করতে পারে, তাহলেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার যেন বৈষম্যবিরোধী আইন তৈরি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে। গণভোটে হ্যাঁ বা না বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে।’
জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন ঘনীভূত হলে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। আইন সহজে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে পরিণত হয়। হামলা, সংঘর্ষ, হুমকি, হয়রানি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। মানুষ গণতন্ত্র ও সংস্কারের কথা বলে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের ব্যাপারে মানুষ এখনো সন্দিহান, যদিও অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসার কারণে যথেষ্ট আশার সঞ্চার হয়েছে।’