দেশের আইসিটি ও টেলিকম খাতে পরবর্তী সরকারের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছি না- বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আইসিটি ও টেলিকম খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম পরবর্তী সরকার অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। পাশাপাশি শুল্ক কমানোর ফলে মোবাইলের দাম কমাতে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করেছে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)।
ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম, আইসিটি সেক্টর দুর্নীতি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ প্রমুখ। শুল্ক কমানোয় মোবাইলের দাম কমানো প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘যেহেতু শুল্ক কমেছে। দাম কমে আসা উচিত। এক্ষেত্রে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার আছে- সবাইকে যদি আমরা ইফেক্টিভ করতে পারি তাহলে অবশ্যই মোবাইলের দাম কমে আসবে।’ আইসিটি ও টেলিকম খাতে আনা সংস্কার পরবর্তী সরকার বাতিল করে দেবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা করতেই পারে। তবে সেখানে আমরাও চ্যালেঞ্জ করতে পারব- আমরা কোনো বাক্য বা কোনো শব্দ কেন লিখেছি।
সুতরাং পরের সরকার এসে আনডু করে দেবে সেজন্য সংস্কার হবে না- এ ধরনের মনোবৃদ্ধি আমাদের মধ্যে নেই। আমরা এই পলিসিগত কার্যক্রম কন্টিনিউ করব। যেটা করেছি সেটা আমরা স্পষ্টভাবে করে যাব এবং আমরা চলে যাওয়ার পরে সেটা ডিফেন্ড করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করব।
আগামী সরকারের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, আমি মনে করি আমি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছি না। বরং তাদের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে যাচ্ছি। সব সমালোচনা সব চাপ সবকিছু- নিজের কাঁধে নিয়ে যাচ্ছি আমরা- তারা যাতে দেশের ডিজিটাল ইকোনমিকে এগিয়ে নিতে পারে।
সম্প্রতি ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘হ্যাঁ ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হয়ে গেছে। এটা সংখ্যায় বড় কিন্তু এই সিমগুলোর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ অব্যবহৃত ছিল। আমাদের একটা আইন আছে, একজনের এনআইডির বিপরীতে এখন আর ১০ এর অধিক সিম থাকতে পারবে না। তবে একজনের এনআইডির বিপরীতে ৫টি সিমের যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে সেটি ভুল।