স্বর্ণ আমদানি আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বাজুস প্রতিনিধিদল এ দাবি জানায়। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলেন, শুধু ভ্যাটের কারণে দুবাই ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বর্ণের দামের পার্থক্য ভরিতে ২৫-৩০ হাজার টাকা। আমদানি-পরবর্তী সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। এতে ক্রেতারা নিরুৎসাহ হন। মূল্য পার্থক্যের কারণে সক্ষম ক্রেতারা দেশ থেকে স্বর্ণ না কিনে বিদেশমুখী হচ্ছেন।
বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘আমাদের দেশে হাতে তৈরি এবং হালকা অলংকার পৃথিবীর অন্য কোথাও তৈরি করা সম্ভব নয়। অথচ সঠিক পলিসির অভাবে আমরা তা রপ্তানি করতে পারছি না। একসময় তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারে কয়েক লাখ স্বর্ণশিল্পী ছিল, যা এখন কমে ৫ থেকে ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। উদ্যোগ না নিলে এ শিল্প মসলিন শাড়ির মতো জাদুঘরে চলে যাবে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘আগামী বাজেটে এ খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। স্বর্ণ আমদানির সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে এনবিআর।’ বাজুস সহসভাপতি এবং বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পলিসি কোঅর্ডিনেশনের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘স্বর্ণ নীতিমালাটি অত্যন্ত জরুরি; যা ২০১৮ সালে হওয়ার পর ২০২১ সালে সংশোধিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শতভাগ বৈধ ও পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে এটি সংশোধন প্রয়োজন। বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন নীতির কারণে ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছভাবে কাজ করতে গিয়ে সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।’ ব্যবসায়ীরা আঞ্চলিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুয়েলারি বিক্রিতে ভ্যাটহার ৫ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানান। স্বর্ণ আমদানির অনুমোদন ও খালাস প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার (সর্বোচ্চ ৭-১০ কর্মদিবস) মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও রপ্তানি প্রণোদনা হিসেবে ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা প্রদান ও শিল্পে উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানায় বাজুস।