‘ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় আমরা চরমভাবে অপ্রস্তুত। ভূমিকম্প হলে গ্রামের তুলনায় ঢাকায় ক্ষয়ক্ষতি হবে ভয়াবহ। ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ১০ লক্ষাধিক ভবন ধসে পড়তে পারে। জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।’
গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘ভূমিকম্পে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব) এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এডাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাপসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল এবং পরিবেশ বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান প্রমুখ। বক্তারা ভূমিকম্পে প্রাণ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হিসেবে বিধিমালা না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ, গ্লাস বিল্ডিং বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ঘনবসতি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, বিকল্প বহির্গমন পথের অভাব, নরম পলিমাটিতে স্থাপনা নির্মাণ, দুর্নীতি, জনসচেতনতার ঘাটতি ও কুসংস্কারকে চিহ্নিত করেন।
বক্তারা বলেন, ভূমিকম্পের ভয়াবহতা মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার, কমিউনিটি, স্থানীয় সরকার এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। ভূমিকম্পের আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। ভূমিকম্প প্রাকৃতিক হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট। সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দায়িত্বশীল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। দুর্যোগ পরবর্তী মানসিক ট্রমা মোকাবিলায় হাসপাতালভিত্তিক সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট জোরদার করতে হবে।
বক্তারা বর্তমান সরকারকে জিওলজিক্যাল সার্ভে বিভাগকে শক্তিশালীকরণ, সিভিল ডিফেন্স শক্তিশালীকরণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, স্থানীয় সরকারকে কার্যকর দায়িত্ব প্রদান, তথ্যভিত্তিক কমিউনিটি হাব স্থাপন, ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান। তারা স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর কথাও বলেন।