উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার এবং সেখানে নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলো- মো. মোস্তফা (৪৬) ও মো. মহসিন মিয়া (৪২)। গত ১৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া এলাকায় র্যাব-৪ ও র্যাব-৯ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা একটি বেসরকারি এজেন্সির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে র্যাব জানায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবদুল খালেক (২২) অভিযুক্তদের পরিচিত। তাকে মালয়েশিয়া হয়ে আমেরিকায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালে প্রথমে ৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ভিসা প্রস্তুতের কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।
র্যাব-৪ এ দায়িত্বরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন আর নিয়তি বলেন, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর আমেরিকায় পাঠানোর কথা থাকলেও তাকে সেখানে আটকে রেখে একটি কারখানায় জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে থেকে মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগী কৌশলে একটি পাসপোর্ট সংগ্রহ করলেও প্রতারণার শিকার হয়ে আরও বিপদের মুখে পড়েন।
একপর্যায়ে মালয়েশিয়ান পুলিশের হাতে আটক হয়ে অবৈধ অবস্থানের দায়ে চার মাস কারাভোগ করেন। ২০২৫ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ঢাকার কাফরুল থানায় মানব পাচারের মামলা করেন। এই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।