ভোটের আর সপ্তাহ তিনেকও বাকি নেই। তার মধ্যেই খুলনা অঞ্চলে আলোচনা শুরু হয়েছে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নিয়ে। কারণ সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ব্যাপক ভোট কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটে। ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া ও ভোট কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে দেওয়া হয়। সেই আবহ এখনো এ অঞ্চলে আছে বলে অনেক নির্বাচন বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলার ৮৪০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৫টিতে ঝুঁকি আছে। একইভাবে বিভাগের বাকি ৯টি জেলায় আরও ৭৪৪টি কেন্দ্রে ঝুঁকি রয়েছে। বিগত দিনে কেন্দ্রটিতে দ্বন্দ্ব হয়েছে কি না, কেন্দ্র দুর্গম এলাকায় বা প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ির আশপাশে কিংবা অপরাধের সম্ভাবনা আছে কি না- এ বিবেচনায় অক্টোবর মাসে পুলিশ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে কেন্দ্র চিহ্নিত করে। মূলত প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাড. বাবুল হাওলাদার বলেন, বিগত দিনে ভোটের আগের রাতে ভোট কেন্দ্র দখল হয়ে যায়। এবারও ভোট কেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করা হবে না- এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রত্যন্ত উপকূলে ভোট কেন্দ্রে ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে খুলনা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, দুর্গম এলাকায় রাস্তাঘাটের যে অবস্থা তাতে কোনো কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটলে তার খবর শুনে সেখানে সময়মতো পৌঁছানো যাবে না। আগে থেকেই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ও কোস্টগার্ড সক্রিয় রাখতে হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনটিতে ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৯টিতে ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা-২ আসনে ১৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টি, খুলনা-৪ আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টি, খুলনা-৫ এ ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৩টি, খুলনা-৩ আসনের ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টি ও খুলনা-১ আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ আসন রয়েছে। খুলনা বিভাগের ৫ হাজার ১৩৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে যশোরে ১৮৬টি, বাগেরহাট ১৮৬টি, সাতক্ষীরা ৫৯টি, ঝিনাইদহে ৩৩টি, মাগুরা ৫৫টি, নড়াইল ৪২টি, কুষ্টিয়া ৯৯টি, চুয়াডাঙ্গা ৫৭টি ও মেহেরপুরে ২৭টি কেন্দ্র অতি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জনমনে হুমকি তো আছেই। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণে অস্ত্রধারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ‘ব্লক রেইড’ করতে হবে। শহরের প্রবেশপথে চেকিং পয়েন্ট করতে হবে। প্রতিদিন যৌথ বাহিনীকে টহল দিতে হবে।
তবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই সহনশীল পর্যায়ে এসেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, এরই মধ্যে ভোট কেন্দ্রে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন তাদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বকালীন বডি ক্যামেরা সংযোজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে দাবি করে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ বলেন, আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর একটা নির্বাচন উপহার দিতে চাই, সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।