রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনটি পুনরুদ্ধারে দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মজিবুর রহমানকে বিজয়ী করতে ব্যাপক নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সদস্য ও রোকনদের কাছ থেকে ‘নির্বাচনি ওয়াদা’ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিশাল ব্যয় সামাল দিতে জামায়াত অভ্যন্তরীণভাবে একটি বড় তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ‘নির্বাচনি ওয়াদা’ অনুযায়ী, যেসব সদস্য বা রোকন চাকরিজীবী রয়েছেন তারা তাদের এক মাসের পুরো বেতন দলকে দেবেন। অন্যদিকে যারা চাকরিজীবী নন কিন্তু নিয়মিত ‘ইয়ানত’ (মাসিক চাঁদা) দেন, তাদের এবার স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ গুণ বেশি টাকা এককালীন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কর্মীরা সামর্থ্য অনুযায়ী দান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান তাঁর নির্বাচনি হলফনামায় মোট ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর নিজের ৫ লাখ এবং বড় ভাই ড. ওবায়দুল্লাহর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। এ ছাড়া আরেক ভাই ডা. আবদুল বাকী, ফিনল্যান্ড প্রবাসী ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে সুহাইল মাহমুদ প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে স্বেচ্ছায় দান করবেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পাঁচজন শুভাকাক্সক্ষীর কাছ থেকে আরও ১২ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তানোরের সাদিপুর এলাকার আবদুল কাদের ৫ লাখ, রাজশাহী কোর্ট এলাকার মো. শহিদুল্লাহ ২ লাখ, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাটের আবুল হাসান ২ লাখ, মুন্ডুমালার আনিসুর রহমান ১ লাখ ও মহিষালবাড়ির আনারুল ইসলাম ২ লাখ টাকা দান হিসেবে দেবেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, হলফনামায় প্রদর্শিত এই ৩৭ লাখ টাকার বাইরে দলীয়ভাবে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ নির্বাচনি ব্যয়ের সীমানা অতিক্রম করবে কি না। এ বিষয়ে প্রার্থীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল খালেক বলেন, ‘এটি মূলত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নেতা-কর্মীরা যে টাকা দিচ্ছেন তা সাংগঠনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় হবে। একটি ওয়ার্ড সভাপতি তার এলাকায় কাজ করবেন, সেখানে খরচ হবে। এটাকে প্রার্থীর ব্যক্তিগত নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সারা বছরই সাংগঠনিক কর্মসূচি ও খরচ থাকে।’
রাজশাহী-১ আসনে ১৯৮৬ সালে অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হকের দখলে ছিল। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী এখান থেকে নির্বাচিত হন। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মৃত্যুর পর এবার এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন। তার সঙ্গেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন জামায়াতের অধ্যাপক মজিবুর রহমান।