আজ ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে ছাত্র-গণ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরাচার আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) মুক্তিকামী নিপীড়িত জনগণের পক্ষে জাতির মুক্তিসনদ খ্যাত ছয় দফা এবং পরবর্তীতে ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল এ গণ অভ্যুত্থান। ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং ১১ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ’৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ দেশব্যাপী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দেয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানর প্রাদেশিক সরকার ছাত্র আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ নেয়। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) শহীদ হলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়। শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি অভূতপূর্ব গণ অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। সংগ্রামী জনতা স্বৈরাচার শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে সচিবালয়ের সামনে নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর রহমান ও রুস্তম শহীদ হন। প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা সেদিন সচিবালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। সেই থেকে প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি গণ অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।