ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণের সুদহার নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মনে করছে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের নেওয়া মাইক্রোক্রেডিটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুদের হার অযৌক্তিকভাবে বেশি এবং তা দরিদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চক্রবৃদ্ধি সুদ আরোপের কারণে ঋণ পরিশোধের দায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ চায় মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো যেন চক্রবৃদ্ধি সুদের পরিবর্তে সরল সুদ আদায় করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে, তাই সুদের হার কত হবে সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকই নেবে। তিনি আরও জানান, তারা প্রস্তাব করেছিলেন যেন মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদহার প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুদের হারের সঙ্গে যৌক্তিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তার ভাষায়, মাইক্রোক্রেডিটের সুদ দরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য অসহনীয়।
আমরা চাই সরকার সুদের হারের একটি সীমা নির্ধারণ করুক, যাতে ঋণগুলো গ্রাহকদের জন্য টেকসই হয়।
বর্তমানে দেশে মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে প্রায় ২৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়ে থাকে, যা প্রচলিত ব্যাংক ঋণের সুদের প্রায় দ্বিগুণ। অতীতে এসব প্রতিষ্ঠানে সুদের হার ছিল ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। ২০১০ সালে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি সুদের সর্বোচ্চ হার ২৭ শতাংশে নামিয়ে আনে। পরে ২০১৯ সালে তা আরও কমিয়ে ২৪ শতাংশ করা হলেও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে এই হার এখনো ঋণগ্রহীতাদের জন্য অতিরিক্ত।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, ঋণগ্রহীতারাই ঠিক করবেন তারা কোথা থেকে ঋণ নেবেন, আর গ্রাহক আকর্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হবে তাদের পণ্য ও সেবাকে প্রতিযোগিতামূলক করা। কোনো ব্যাংকের ঋণের সুদের ওপর সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা উচিত নয়।