জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর সপ্তাহখানের সময় বাকি। নির্বাচনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকেও নির্বাচিত হবেন ১৬ জন আইনপ্রণেতা। তবে চট্টগ্রামে ভোটের আগে ফের আলোচনায় মহানগরটির নানান সমস্যা বিশেষ করে জলাবদ্ধতা। আর এ কারণেই নির্বাচন ঘিরে নগরবাসীর মনে কিছু স্বপ্ন-প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। নির্বাচিতরা কি এবার দ্বিতীয় রাজধানীর দিকে সুদৃষ্টি দেবেন?
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা অতীতে ছিল বর্ষা মৌসুম কেন্দ্রিক সমস্যা। তবে এই সমস্যা আর বর্ষাতেই সীমাবদ্ধতা নেই। এখন অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শুষ্ক মৌসুমেও সড়কজুড়ে থইথই পানি। পথচারী তো বটেই, যানবাহন চলাচলেও বেগ পেতে হচ্ছে। এভাবে কেবল জলাবদ্ধতা নয়, প্রতিনিয়ত নাগরিক সমস্যা বাড়ছেই। নিত্য নাগরিক সমস্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম নগরের মানুষ। দিন পার করতে হয় দুর্ভোগ মাড়িয়েই। বর্তমানে চট্টগ্রামে প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে আছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, অসহনীয় যানজট, অপ্রতুল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, বেহাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার যন্ত্রণা, সুপেয় পানির সংকট, সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, গ্যাসের সংকট, ফুটপাত বেদখল, বিশৃঙ্খল গণপরিবহন, খেলাধুলার জন্য খোলা জায়গা না থাকা, খাল-নালা-ড্রেন বর্জ্যরে ভাগাড়, বায়ুদূষণ, খাল দখল, পাহাড় কাটা ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার তিনটি সড়কে দূষিত কালো কুচকুচে পানি নালা-ড্রেন পূর্ণ হয়ে সড়কেই থইথই করছে। একই অবস্থা অনতিদূরে রহমতগঞ্জ সড়কে। কয়েকদিন আগেও প্রবর্তক মোড় এবং হেমসেন লেনের সড়কেও ছিল হাঁটুজল পানি। এসব স্থানে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি তিনটি সংস্থার প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার পৃথক চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও এটি এখনো নগরের অন্যতম সমস্যা। চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম নগরবাসীর দুর্ভোগ সম্পর্কে বলেন, নগরবাসী কর দেন, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পান না। বরং দিনদিন বিভিন্ন নাগরিক সেবার ব্যয় বাড়ছে এবং সেবার মান কমছে। দুর্ভোগই যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী।
তাই আগামী নির্বাচনি বিজয়ীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা- অন্তত নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে তারা যেন আন্তরিক হন। চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, দেশের দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রাম নগরে নানা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।
ইতোমধ্যে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা একটি নিরাপদ নগরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। আমরা আশা করব, আগামী দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একটি নিরাপদ নগর গড়তে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
জানা যায়, নগরে খাল আছে ৫৭টি। এর মধ্যে সিডিএ মেগা প্রকল্পের অধীন ৩৬টি খাল সংস্কার করলেও বাকি ২১টির অবস্থা এখন করুণ। ৩০ ফুট প্রস্থের খাল এখন ৮-১০ ফুট। অনেক স্থানের খালটি নালায় পরিণত হয়েছে।